বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলাতেই গড়াল জল! হাইকোর্টের এজলাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা চালে সোরগোল!

বিশিষ্ট আইনজীবী তথা প্রবীণ সিপিআইএম (CPI-M) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ইএম বাইপাস সংলগ্ন বাড়িতে তাণ্ডবের ঘটনা এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে। বর্ষীয়ান আইনজ্ঞের বাসভবনে হামলার জেরে কলকাতা হাইকোর্টের অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সাতসকালে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে বোতল ও ইট ছুড়ে তাণ্ডব চালানোর খবর সামনে আসার পরেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়।

আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্পষ্ট জানান, দলীয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু একজন সিনিয়র আইনজীবীর বাড়িতে এভাবে মুখ ঢেকে দুষ্কৃতীদের হামলা চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

  • আইনজীবীদের নিরাপত্তার দাবি: তিনি আদালতে সওয়াল করে বলেন, আইনজীবীরা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে? অবিলম্বে বিকাশবাবুসহ সমস্ত আইনজীবীর উপযুক্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা জরুরি।

  • দলমতের ঊর্ধ্বে পেশাগত সংহতি: এই ঘটনায় আইনজীবী সমাজের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেশাগত জায়গায় সবাই সহকর্মী। ফলে এই ধরনের আক্রমণ পুরো আইনজীবী সমাজের ওপরই আঘাত হানার শামিল।

“মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু একজন বর্ষীয়ান আইনজীবীর নিরাপত্তায় ঘাটতি পড়লে তা গোটা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলে।” — আদালতের এজলাসে মন্তব্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

পুলিশি তদন্ত ও নিরাপত্তা বলয়

অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছে পূর্ব যাদবপুর থানা ও লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল। হামলাকারীর মুখ গামছায় বাঁধা ছিল এবং বাইকের নম্বর প্লেটও আড়াল করা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ফোন করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং গোটা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে এই বর্ষীয়ান আইনজীবীর বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে বসেছে বিশেষ পুলিশি পিকেট। তবে হাইকোর্টে বিষয়টি ওঠার পর দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *