উৎসবের আবহেই ঘানাচ্ছে আশঙ্কার মেঘ! পুজোর মুখেই রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে ইমার্জেন্সি নির্দেশিকা জারি!

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দ যখন দোড়গোড়ায়, ঠিক তখনই রাজ্যে ডেঙ্গির সংক্রমণ ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। পুজোর দিনগুলিতে মশার উপদ্রব এবং জনসমাগমের কারণে ডেঙ্গি সংক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিকে ‘হাই রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ ও বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বাস্থ্য দপ্তর।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করার পাশাপাশি নতুন এক গুচ্ছ দিকনির্দেশনা (SOP) ও প্রতিরোধমূলক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
পুজো মণ্ডপে বাধ্যতামূলক এসওপি ও মেট্রোয় বিশেষ প্রচার
উৎসবের দিনগুলিতে লক্ষ লক্ষ প্যান্ডেলহপারদের সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
-
মণ্ডপের বিশেষ এসওপি: পুজো মণ্ডপ এবং তার আশপাশের এলাকায় যাতে কোনোভাবেই জল জমে মশারি লার্ভা না জন্মায়, সে বিষয়ে প্রতিটি পুজো কমিটিকে বিশেষ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) মেনে চলতে হবে।
-
মেট্রো রেলে প্রচার: পুজোর কেনাকাটা ও ঠাকুর দেখার প্রধান মাধ্যম মেট্রো রেল। যাত্রীদের মধ্যে মণ্ডপ ও ভ্রমণকালীন সচেতনতা বাড়াতে এবার মেট্রো চত্বরে বিশেষ অডিও ও ভিজ্যুয়াল প্রচার চালাবে স্বাস্থ্য দপ্তর।
হাওড়া ও কলকাতায় স্পেশাল ড্রাইভ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাওড়া পুরনিগমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি নার্সিং স্কুলের একাধিক পড়ুয়া সম্প্রতি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই খবরের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকা ও বিশেষ কয়েকটি বিপজ্জনক ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম পাঠিয়ে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ ও বাড়তি নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার একাধিক স্পর্শকাতর ওয়ার্ডেও মশার লার্ভা দমনে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
“হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সমস্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চিকিৎসা করতে বলা হয়েছে।” — স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ।
১০ দিনের বেশি জ্বর? খবরদার হালকাভাবে নেবেন না!
চলতি মরশুমে রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলির ‘ডেথ রিপোর্ট অডিট’ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর রোগীদের শারীরিক জটিলতা অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন গাইডলাইনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে— যদি কোনো রোগীর জ্বর ১০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে তা শুধু ডেঙ্গি ভেবে বসে না থেকে অবিলম্বে অন্যান্য জটিল সংক্রমণের পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ এর পেছনে এন্টারিক ফিভার, ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস, লেপ্টোস্পাইরোসিস কিংবা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)-এর মতো সহ-সংক্রমণ (Co-infection) জড়িয়ে থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য ভবনের এই কড়া পদক্ষেপের বার্তা স্পষ্ট— উৎসবের আমেজে মাতলেও ডেঙ্গি প্রতিরোধে কোনো ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না।