“৩০-৭০ শতাংশের কথা মনে আছে তো?” কাঁদতে কাঁদতে হুমায়ুনের অবসরের নাটকে বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার!

সংবাদমাধ্যমের সামনে ডুকরে কেঁদে উঠে রাজনীতি থেকে আচমকা অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে তাঁর এই চরম সিদ্ধান্ত ও কান্নাকে গুরুত্ব দিতে একেবারেই নারাজ বিজেপি শিবির। হুমায়ুনের এই কান্নাকে সরাসরি ‘কুমিরের কান্না’ বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সুকান্ত মজুমদার। সেখানেই হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি ত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একের পর এক তীক্ষ্ণ বাণে বিধায়ককে বিঁধতে শুরু করেন তিনি।

“৩০-৭০ শতাংশের কথা ভুলেই গেলেন?” — সুকান্তর ত্যক্ত আক্রমণ

হুমায়ুন কবীরের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হতেই কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া জানান সুকান্ত। তিনি বলেন:

“হুমায়ুন কবীরের মতো মানুষেরা সময়ে সময়ে অনেক নাটক করেন। ওঁর এই কুমিরের কান্না দেখে কেউ যেন ভুল না বোঝেন। ওঁর ওই ‘৩০ শতাংশ বনাম ৭০ শতাংশ’-এর বিষাক্ত মন্তব্যের কথা দেশের মানুষ কি এত সহজে ভুলে যাবে?”

সুকান্তর ইঙ্গিত স্পষ্ট, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে সহানুভূতি কুড়োতেই কান্নাকাটির এই পথ বেছে নিয়েছেন বিতর্কিত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ইন্ডি জোট ও রাহুলদের বিরোধিতাকেও তীব্র আক্রমণ

এদিনের মঞ্চ থেকে শুধু হুমায়ুন কবীর নন, দিল্লির আন্দোলন এবং ‘ইন্ডি’ (INDI) জোটকেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি:

  • ইন্ডি জোট নিয়ে কটাক্ষ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইন্ডি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এই ডুবন্ত জাহাজ এবার পুরো ডুববে। আমরা তো চাই ভাইপোকেই এই জোটের সর্বময় প্রধান করা হোক, যাতে খুব দ্রুত পুরো জোটটা ইতিহাস হয়ে যায়।”

  • কংগ্রেসের দ্বিমুখী নীতি: দিল্লির এসআইআর (SIR) ইস্যুতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিক্ষোভকে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা বলে উল্লেখ করে সুকান্ত প্রশ্ন তোলেন, কেরলে কংগ্রেসেরই মুখ্যমন্ত্রী যখন এসআইআর-এর প্রশংসা করছেন, তখন দিল্লিতে কোন স্বার্থে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে?

হুমায়ুন কবীরের অবসর গ্রহণ ঘিরে রাজনীতির ময়দানে রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে। সুকান্ত মজুমদারের এই অল-আউট অ্যাটাকের পর হুমায়ুন শিবিরের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *