প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা! জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য কমিশনারদের বৈধতা নিয়ে চরম বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার দেশের শীর্ষ তিন সাংবিধানিক পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন আবেদন দায়ের হয়েছে। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার (EC) সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এই মামলাটি নিয়ে আইনি মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। আবেদনকারী সুরি পায়ালার দাবি, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩’-এর নির্দিষ্ট বিধান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
আবেদনকারীর প্রধান যুক্তি হলো, ২০২৩ সালের আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্য প্রার্থীদের একটি সুনির্দিষ্ট প্যানেল প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমান নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বা ছজনের নামের যথাযথ প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যদিও ২০২৪ সালের মার্চ মাসের সুপ্রিম কোর্টের নথি বলছে, তৎকালীন অনুসন্ধান কমিটি বিবেচনার জন্য ছয়টি নামের একটি তালিকা পেশ করেছিল এবং সেইমতো ১৪ মার্চ জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধুর নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই পুরো প্যানেল তৈরি ও বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না এবং তাঁরা ২০২৩ সালের আইনের ৫ ধারার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করেননি বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে ‘অনুপ বার্নওয়াল’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, সংসদ আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) নিয়ে গড়া একটি প্যানেলের সুপারিশে এই নিয়োগ হওয়া উচিত। এর প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালে একটি নতুন আইন আনে, যেখান থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত একজন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইনের এই সংশোধনী এবং নির্বাচন কমিটি থেকে সিজেআই-কে বাদ দেওয়ার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংক্রান্ত একটি বেঞ্চ বিষয়টিকে বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে সুপারিশও করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নানা কার্যক্রম নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ চলছে, ঠিক সেই সময় এই নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট এই আইনি প্রশ্নগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।