১১ কোটির গাঁজা বাগান ধ্বংস! গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে চোখ কপালে তুলল পুলিশ-এনসিবি

উদয়পুর জেলার আদিবাসী-অধ্যুষিত কোটাডা এলাকায় অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় অভিযান চালাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নয়াবাস গ্রামের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হানা দিয়ে প্রায় ৯.৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি বিশাল অবৈধ গাঁজা বাগান পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে যৌথ বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে মোট ৭,৫৭৭টি আস্ত গাঁজা গাছ উপড়ে ফেলে পুড়িয়ে বা নষ্ট করা হয়। আধিকারিকদের অনুমান, এই বাগান থেকে প্রায় ২,২৭৩ কেজি গাঁজা উৎপাদিত হতো, যার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১১.৭৬ কোটি টাকা (১১৭.৬ মিলিয়ন রুপি)।
গোপন আস্তানায় অভিযান:
নয়াওয়াস গ্রামের যে জমিতে এই বেআইনি চাষ চলছিল, তা চারপাশ থেকে পাহাড়ি এলাকা ও খেতখামারের মাঝে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থিত ছিল। ফলে বাইরে থেকে সহজে এই অবৈধ ফসল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) যোধপুর, রাজস্থান অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশ একটি যৌথ দল গঠন করে সেখানে হানা দেয়। ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ গাঁজা গাছ দেখে তৎপরতার সঙ্গে সেগুলি ধ্বংস করার কাজ শুরু হয়, যাতে এর কোনো অংশ মাদক হিসেবে বাজারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
মাদক নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা ও নতুন কড়া নিয়ম:
অবৈধ মাদক চক্রের ওপর এটি একটি বিশাল আঘাত বলে মনে করছে প্রশাসন। এই বিশাল পরিমাণ গাঁজা চাষের নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে এবং এর সঙ্গে স্থানীয় বা ভিনরাজ্যের কোন কোন প্রভাবশালী চক্র জড়িত, তা চিহ্নিত করতে জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে। যোধপুরের জোনাল ডিরেক্টর ঘনশ্যাম সোনি জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জমির প্রকৃত মালিক ও চাষিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজস্থান সরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মাদক চাষ কঠোর হাতে দমন করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম ও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে স্থানীয় পটোয়ারিদের নিজ নিজ এলাকায় গাঁজা বা আফিমের মতো যেকোনো অবৈধ মাদক চাষ পর্যবেক্ষণের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় এই ধরনের সন্দেহজনক বা বেআইনি চাষের সন্ধান মিললে পটোয়ারিকে অবিলম্বে গিরদাওয়ার ও তহসিলদারকে জানাতে হবে। এরপর গিরদাওয়ার নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির মালিকানা ও ফসলের ক্ষেত্র খতিয়ে দেখবেন। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স এবং এনসিবি-র কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই কাজে কোনো ধরনের বিলম্ব বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট পটোয়ারি ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত সহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।