১০ অক্টোবর বড় আন্দোলনের হুঙ্কার! ব্যাগ গুছিয়ে আসার নির্দেশ সিজেপির, নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ

মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর পর এবার রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় আন্দোলনের ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। গত জুলাই মাসে দীর্ঘ সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন চললেও, এবার ইস্যু ভিন্ন হলেও দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে এই রাজনৈতিক দল। আর এই প্রস্তাবিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবর সিজেপির এই আন্দোলনের কর্মসূচি থাকলেও পুলিশ এখনও তার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি। আর সেই কারণেই জনসাধারণ ও ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে আজ বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে বিশেষ আউটরিচ প্রোগ্রাম।
হস্টেল ও পিজিগুলিতে পুলিশের নজরদারি:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করেছে দিল্লি পুলিশ। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হস্টেল ওয়ার্ডেন এবং পেয়িং গেস্ট (PG) মালিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে পুলিশ। ছাত্রছাত্রীরা যে সমস্ত আবাসনে থাকেন, সেখানকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলির কাছেও পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে ১০ তারিখের এই আন্দোলনে পুলিশের তরফ থেকে কোনো অনুমতি মেলেনি। এছাড়া ভিনরাজ্য থেকে যাঁরা আন্দোলনে অংশ নিতে আসছেন, তাঁদের ‘ব্যাগ গুছিয়ে আসার’ জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব, যার ফলে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কড়া নিরাপত্তায় মুড়ছে রাজধানী:
আন্দোলনকারীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বাস অপারেটরদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে পুলিশ, যাতে বোঝা যায় কোন কোন জায়গা থেকে বাস বুক করা হচ্ছে। বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ অফিসারদের বডি ক্যাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য আলাদা ক্যামেরাম্যান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দিল্লি সীমানার সমস্ত এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টগুলিতে কঠোর নাকাবন্দি করে অবিরাম গাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে ইতিমধ্যেই ২০০ কোম্পানি সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF) বা আধা সেনা চেয়েছে দিল্লি পুলিশ, পাশাপাশি মহিলা পুলিশ কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।