আমেরিকার ট্রাম্প বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন! ভোটার তালিকা যাচাইয়ে কোন দেশের কৌশল কেমন?

ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরা সত্যিই দেশের নাগরিক কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ভারত ও আমেরিকায় বর্তমানে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ভোটার তালিকা যাচাইয়ে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ব্যবহারের জোরালো সওয়াল করছেন। অন্যদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশন ‘SIR’ (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ভারতে আধারের বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত নয়; এই সংযোগ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন।
আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ‘SAVE’ (সেভ) নামক ডেটাবেস। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে এই ডেটাবেস ব্যবহার করে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের ভোটার তালিকা কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ‘SAVE’-এ অভিবাসন ও সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হলেও, পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়িয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি-সহ আরও তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। তবে সব রাজ্যের জন্য এটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। একইসঙ্গে, এই ডেটাবেসে ভুল শনাক্তকরণের আশঙ্কা নিয়েও দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে, ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘SIR’-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া, ডুপ্লিকেট এবং ভোটদানের যোগ্যতা নেই—এমন নামগুলি চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখে। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই ওই ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন—এমন ঘোষণা নয়। নাগরিকত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতেই ন্যস্ত।
এসআইআর-এর ক্ষেত্রে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম বা পরিবারের যোগসূত্র না মেলা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট নথির মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। জন্মের সময় অনুযায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।
দুই দেশের এই ব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্যও রয়েছে। আমেরিকায় নির্বাচন পরিচালনার সিংহভাগ দায়িত্ব রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের হাতে থাকে। বিপরীতে, ভারতে জাতীয় স্তরে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ পরিচালনা করে থাকে। ফলে ট্রাম্পের ‘SAVE’ এবং ভারতের ‘SIR’-এর উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের ভাবনা কিছুটা মিললেও, দুই দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রয়োগের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।