৪৫০ কোটির বিশ্বমানের স্টেশনে মহিষের অবাধ বিচরণ! প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধরার লাইন দিল দু’টি ষাঁড়?

দেশের অন্যতম আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন রেল স্টেশন হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রদেশের ভোপালের রানি কমলাপতি রেলওয়ে স্টেশন। কিন্তু সম্প্রতি এই স্টেশন চত্বর থেকেই এমন একটি দৃশ্য সামনে এসেছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের। ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি এই বিশ্বমানের স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দিব্যি ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল দুটি মহিষকে। যাত্রীদের ভিড় এবং ব্যস্ততার মধ্যেই ট্রেন ধরার মতো করে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, প্ল্যাটফর্মে উপচে পড়া ভিড় এবং পাশ দিয়েই যাতায়াত করছেন যাত্রীরা ও রেলকর্মীরা। অথচ কোনো রকম বাধা ছাড়াই মহিষ দুটি সোজা ট্রেনের দিকে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে প্ল্যাটফর্মে তাদের এভাবে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে তাদের সরাতে বা প্রতিহত করতে দেখা যায়নি। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে লাখ টাকার প্রশ্ন
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্টেশনের নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, এত কড়া নিরাপত্তার বেড়াজাল এবং প্রবেশদ্বারে তল্লাশি এড়িয়ে আস্ত দুটি মহিষ কীভাবে সোজা প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছাল? ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মিত এই স্টেশনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি উন্নত ব্যবস্থাপনার দাবি করা হলেও, এই ঘটনা প্রশাসনের গাফিলতিকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
কী জানাল রেল কর্তৃপক্ষ?
বিতর্ক বাড়তে নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিম মধ্য রেল (ডব্লিউসিআর) কর্তৃপক্ষ। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গবাদি পশু ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। পয়েন্টসম্যান এবং স্টেশন মাস্টার সহ উপস্থিত কর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপরতা দেখিয়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ দুপুর ৩:১৩ মিনিট থেকে ৩:১৬ মিনিটের মধ্যে গবাদি পশুগুলোকে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেন।
যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল প্রশাসন। একইসঙ্গে, স্টেশন চত্বরে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবিলম্বে স্টেশনের সমস্ত খোলা অংশ বা গবাদি পশু ঢোকার সম্ভাব্য রাস্তাগুলো পুরোপুরি সিল বা বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ ফেন্সিং বা বেড়ার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সমস্ত সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দিয়েছে রানি কমলাপতি স্টেশন প্রশাসন।