মাছ বাজারে বসে দর হাঁকছেন অভিনেত্রী! সাধারণ শাড়িতে এমন কাণ্ড দেখে চিনতেই পারছেন না ভক্তরা

মাছের বাজারে বসে জমিয়ে দর হাঁকছেন, হাতে ধরা একের পর এক বড় বড় তাজা মাছ, পরনে সাদামাটা শাড়ি আর মাথায় টানটান করে বাঁধা খোঁপা। প্রথম ঝলকে দেখলে তাঁকে চিনে ওঠাই দায়! কিন্তু একটু ভালো করে খেয়াল করলেই চক্ষু চড়কগাছ হবে সবার—এ তো রূপালী পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়!

আগামী ১৫ অক্টোবর বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত নতুন ছবি ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’। আর সেই ছবির ভিন্নধর্মী প্রচারের খাতিরেই এবার একেবারে নতুন ও অচেনা অবতারে ধরা দিলেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই হাসির রোল উঠেছে নেটপাড়ায়।

‘ছ্যাঁচড়াপুর ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ঝিমলি যখন মাছওয়ালি!’
নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় ছবি ‘বহুরূপী’-তে ঝিমলি চরিত্রে কৌশানীর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। ঠিক দু’বছর পর ফের সেই চেনা ‘ঝিমলি’ চরিত্রকে নতুন রুপে ফিরিয়ে আনছেন অভিনেত্রী। তবে ছবির মুক্তির আগেই প্রচারের ময়দানে এমন ধামাকা থাকবে, তা হয়তো অনুরাগীরা কল্পনাও করতে পারেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে কৌশানীর গ্ল্যামারাস লুক এক লহমায় গায়েব! মুখে শ্যামলা মেকআপ, পরনে সাধারণ শাড়ি আর হাতে বড় মাছ তুলে চেনা মাছওয়ালিদের মতো গম্ভীর ও চড়া গলায় হাঁক দিচ্ছেন—”দুশো দুশো, সিলভার দুশো! বড় মাছ, টাটকা মাছ! নিয়ে যান, নিয়ে যান!” ভিডিওটির ক্যাপশনেও মজা করে লেখা হয়েছে—‘ছ্যাঁচড়াপুর ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ঝিমলি যখন মাছওয়ালি।’

“দুটো টাকার জন্য কত কী করতে হয়!” বটি হাতে চরম নাজেহাল কৌশানী
মাছ বিক্রি করার অভিনয়টা সহজে সেরে ফেললেও আসল সমস্যা বাঁধলো মাছ কাটার সময়! বটির সামনে হাত গুটিয়ে বসে সত্যিকারের মাছ কাটতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ছুটলো অভিনেত্রীর। বটিতে মাছ ঘষতে ঘষতে মজার ছলে কপাল চাপড়ে তিনি বলে ওঠেন, “ম্যায় লুট গয়ি, ম্যায় বরবাদ হো গয়ি! দুটো টাকার জন্য কত কী করতে হয়! জীবনে ভাবিনি মাছওয়ালি হতে হবে।”

কৌশানীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যরসাত্মক মেজাজ পুরো ভিডিওটিকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত করে তুলেছে। শুটিং যাতে তাড়াতাড়ি শেষ হয়, সেই আকুতি জানিয়ে মজার ছলে বটি হাতেই ক্রেতাদের উদ্দেশে বলে ওঠেন, “পায়ে পড়ছি, এর মধ্যেই কিনে নিন!”

ভিডিওর শেষভাগে মাছের গন্ধ নিয়ে ইউনিটের কলাকুশলীদের সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা করতেও দেখা যায় তাঁকে। একজনের হাতে মাছের কড়া গন্ধ শুঁকিয়ে হেসে বলেন, “এবার আর স্নান করারও কোনো প্রয়োজন নেই!”

কেমন হবে ‘ঝিমলি’-র এই নতুন ইনিংস?
প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও পুরো বিষয়টিকে কোনো কৃত্রিম বিজ্ঞাপনের মতো মনে হয়নি। বরং ‘ঝিমলি’ চরিত্রের অসংকোচ ও সোজাসাপ্টা মেজাজের সাথে মিশে গিয়ে কৌশানীর এই মাছওয়ালি অবতার দর্শকমন জয় করে নিয়েছে। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

‘বহুরূপী’-র পর ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে কৌশানীর রূপালী পর্দায় প্রত্যাবর্তন কতটা নতুন চমক উপহার দেয়, তার উত্তর মিলবে ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে। তবে একটা বিষয় জলের মতো পরিষ্কার—ছবি মুক্তির আগেই মাছের বাজারে গ্ল্যামারহীন এই ধামাকা দিয়ে বক্স অফিসে আলোচনার পারদ বেশ ভালোভাবেই চড়িয়ে দিলেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *