বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বড় ধাক্কা! নভেম্বরের ১ তারিখ থেকেই বাড়ছে ইউনিট প্রতি দাম, পকেটে টান সাধারণ মানুষের

লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালাতে গিয়ে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য নেমে এল আরও এক বড় ঝটকা। এবার সরাসরি বিদ্যুৎ বিলে চাপতে চলেছে অতিরিক্ত খরচের বোঝা। ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুৎ খরচের ঘাটতি মেটাতে ‘ট্রু-আপ চার্জ’ আদায়ের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আগামী মাস থেকেই গ্রাহকদের পকেট থেকে খসবে বাড়তি টাকা।দু’দফায় বাড়বে চার্জ: নভেম্বর ও ডিসেম্বরের হিসেব প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন চার্জ কার্যকর হতে চলেছে আসন্ন নভেম্বর মাস থেকেই। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী:
নভেম্বর মাস: প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৩০ পয়সা হারে অতিরিক্ত ‘ট্রু-আপ চার্জ’ ধার্য করা হবে।
ডিসেম্বর মাস: শেষ মাস থেকে এই হার আরও বাড়িয়ে প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা পর্যন্ত করা হবে। আবাসিক সংযোগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সমস্ত সংযোগের ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত বিল কার্যকর হবে।কেন এই বাড়তি মূল্য চাপানো হচ্ছে?বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলির বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
মূলত আর্থিক বছরের বিদ্যুৎ কেনাবেচার প্রাথমিক অনুমানের সঙ্গে প্রকৃত খরচের যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মেটাতেই এই ‘ট্রু-আপ চার্জ’ ধার্য করার ছাড়পত্র দিয়েছে তেলঙ্গনা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (TGERC)। ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের বকেয়া ঘাটতি মেটাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৫,৪২০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
স্বস্তি পেলেন কৃষকরা তবে এই অতিরিক্ত মূল্যের বোঝা থেকে সাধারণ কৃষকদের পুরোপুরি ছাড় দেওয়া হয়েছে। মোট অনুমোদিত ৭,৬৩৫ কোটি টাকার ট্রু-আপ চার্জের মধ্যে ২,২১৪ কোটি টাকাই কৃষি পাম্প সেটের খরচের সঙ্গে যুক্ত। যেহেতু কৃষি ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হয়, তাই কৃষকদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি টাকা আদায় করা হবে না এবং এই অংশের খরচের দায়ভার রাজ্য সরকারই বহন করবে। তবে সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত বিল নভেম্বরের বিদ্যুৎ বিলে স্পষ্টভাবেই প্রভাব ফেলবে, যা মাসের শুরুতেই মধ্যবিত্তের বাজেটে বাড়তি টান ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।