“স্বীকৃতি চাই না, দেশসেবাই ধর্ম!” ২৫ বছর পূর্ণের দিনে ২০৪৭ নিয়ে ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

রাষ্ট্রনেতা ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিশেষ ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনের দিনে নতুন দিল্লির ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-র বর্ণাঢ্য মঞ্চ থেকে ভারতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরলেন তিনি। দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সুর ফুটিয়ে প্রধানমন্ত্রী সোচ্চার কণ্ঠে জানিয়েছেন, আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণ করা হবেই।
ইন্ডিয়ান গ্লোবাল স্টেজ ও আগামী দিনের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য। এবং আমরা তা অর্জন করে দেখাবই! আমাদের মূল লক্ষ্য আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা। অদূর ভবিষ্যতে ভারত হবে সমগ্র বিশ্বের কেন্দ্রীয় ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’। ভারত নিজের মাটিতে অলিম্পিকের মতো মেগা বৈশ্বিক ক্রীড়াযজ্ঞ সফলভাবে আয়োজন করবে এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের দেশ আরও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ভারতীয়দের আজকের এই শক্তি ও আত্মবিশ্বাস সত্য়েই অভূতপূর্ব।”
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের কথা স্মরণ করে শ্রী মোদী জানান, কোনো পদের লোভ বা স্বীকৃতির জন্য তিনি কাজ করেন না। তাঁর কথায়, “আমি কোনো স্বীকৃতির কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা করি না। দেশের প্রতি নিরলস সাধনা ও সেবাই আমার একমাত্র মূল ধর্ম।”
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। টানা তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে টানা এক সিকি শতক শীর্ষ প্রশাসনিক পদ অলঙ্কৃত করার অনন্য নজির গড়লেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মোদী বলেন, “২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম, তখন কখনও ভাবিনি যে একদিন এই মাইলফলকে পৌঁছাব। আজ টানা ২৫ বছরের জনসেবা সম্পন্ন করেছি। এটি কোটি কোটি দেশবাসীর অবিচ্ছিন্ন আশীর্বাদ, বিশ্বাস ও সমর্থনেরই ফল।” দেশবাসীর দেওয়া এই আস্থাই তাঁকে আগামী দিনে দেশের জন্য আরও বড় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সাহস জোগাচ্ছে বলে স্পষ্ট জানান প্রধানমন্ত্রী।