৮০% ছাড়েই কেনা যাবে ট্র্যাক্টর! লটারিতে ভাগ্যের চাকা ঘুরলেই কৃষকদের কেল্লাফতে, এক ক্লিকেই আবেদন পদ্ধতি জানুন

রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক সমৃদ্ধি ও কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন রাজ্য কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মণ্ডল। এবার থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। একই সঙ্গে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে কৃষক বন্ধু ও বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পের তালিকায়, যেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম রুখতে এক ধাক্কায় বাতিল করা হচ্ছে প্রায় ১৫ লক্ষ নাম।

কৃষি যন্ত্রপাতিতে বিশাল ভর্তুকি ও লটারি ব্যবস্থা:
কৃষকদের সুবিধার্থে ৪০৭ কোটি টাকার মেগা ভর্তুকি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন কৃষিমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সরকার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। একই সঙ্গে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহজ ঋণের সুবিধাও দেওয়া হবে। কৃষক তাঁর নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো নিবন্ধিত সংস্থার কাছ থেকে ট্র্যাক্টর বা অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে পারবেন। কেবল নিজের জমিতে চাষই নয়, ট্র্যাক্টর ভাড়ায় দিয়ে কৃষকরা যাতে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন—সেই পথও সুগম করছে সরকার।

সরকারি সাহায্য ও বণ্টন ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার উপভোক্তা বাছাই করা হবে লটারির মাধ্যমে।

আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলি:

আবেদন প্রক্রিয়া: মঙ্গলবার থেকেই অনলাইন পোর্টাল চালু হয়ে গেছে। আগামী এক মাস পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকবে।

বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সি যেকোনো কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।

বাধ্যতামূলক শর্ত: আবেদনকারীর ‘কৃষক বন্ধু’ বা ‘পিএম কিষান’ (PM-KISAN) আইডি থাকা বাধ্যতামূলক। এই আইডি না থাকলে আবেদন গ্রাহ্য হবে না।

লক্ষ্যমাত্রা: এবার মোট ৬৭, ৫৮৫ জন কৃষককে এই সুবিধা প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘কৃষক বন্ধু’ থেকে ছাঁটাই ১৫ লক্ষ নাম:
অন্যদিকে, ভুয়ো উপভোক্তা ও অযোগ্যদের নাম বাদ দিতে নবান্নের নির্দেশে চালানো হয়েছিল বিশেষ যাচাই অভিযান। নতুন কৃষিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘বাংলা শস্য বিমা’ প্রকল্পের তালিকা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা যায়, অসংখ্য অকৃষক, সরকারি চাকরিজীবী, একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রতারণা করে এই প্রকল্পের ভাতা নিচ্ছিলেন। এমনকি জমি বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরও অনেকে বেআইনিভাবে টাকা পাচ্ছিলেন।

এই বিশাল অনিয়ম রোখাতেই প্রায় ১৫ লক্ষ অযোগ্য প্রার্থীর নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে কৃষি দফতর। যাতে কেবল প্রকৃত ও দুস্থ কৃষকদের কাছেই সরকারের সাহায্য পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

কবে মিলবে কৃষক বন্ধুর টাকা?
সুসংবাদ হলো, আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের টাকা জমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। খুব শীঘ্রই টাকা লেনদেনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানিয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *