স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেও হৃদরোগের ফাঁদে পড়ছেন? বছরে এই ৪টি জরুরি পরীক্ষা না করালে চরম বিপদ!

প্রতিদিন নিয়ম করে সকালের এক্সারসাইজ, ডায়েট মেনে সুষম খাবার খাওয়া, ফাস্টফুড থেকে দূরে থাকা এবং ধূমপান বর্জন—সবকিছু নিয়ম মেনে করার পরেও কি আপনার মনে প্রশ্ন জাগে, আপনি পুরোপুরি সুরক্ষিত তো? চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানের এই ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক যুগে বাহ্যিকভাবে যতই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা হোক না কেন, অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে হৃদরোগের মতো মারাত্মক মারণব্যাধি। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই আচমকা বড় ধরনের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন মানুষ। আর ঠিক এই কারণেই কেবল জীবনযাত্রার মান উন্নত রাখলেই যথেষ্ট নয়, বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।

কার্ডিওলজিস্ট ও চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সত্ত্বেও হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কোন পরীক্ষাগুলি করানো একান্ত জরুরি, তা জেনে রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ:

১. লিপিড প্রোফাইল টেস্ট (Lipid Profile Test):
শরীরে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ঠিক কোথায় রয়েছে তা জানার জন্য এই পরীক্ষাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

২. ইসিজি এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি (ECG and Echocardiography):
হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ এবং পাম্প করার ক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে ইসিজি এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয়। এর মাধ্যমে হার্টের কোনো অস্বাভাবিকতা বা ভাল্বের সমস্যা খুব সহজেই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরে ফেলা সম্ভব।

৩. ব্লাড সুগার বা এইচবিএওয়ানসি টেস্ট (Blood Sugar / HbA1c):
ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বছরে অন্তত একবার সুগার পরীক্ষা করা জরুরি।

৪. রক্তচাপ ও সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (BP and CRP Test):
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয়। পাশাপাশি শরীরে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন রয়েছে কি না, তা বুঝতে সিআরপি (CRP) পরীক্ষাটি চিকিৎসকরা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
নিয়মমাফিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শরীরের অন্দরের খবর রাখতে নিয়মিত হেলথ চেকআপ করান। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে রাখতে পারে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকির হাত থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত!

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *