হাজার বছরের রহস্যের অবসান? খাজুরাহোর মাথাছাঁটা বিষ্ণুমূর্তিতে লুকিয়ে কোন ইতিহাস, বিরাট পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের পর!

মধ্যপ্রদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান খাজুরাহো থেকে সামনে এল প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এক বড় খবর। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত জাভারি মন্দিরে স্থাপিত একাদশ শতাব্দীর ভগবান বিষ্ণুর শিরহীন বা মাথাভাঙা মূর্তিটি অবশেষে তার মূল অবয়ব ফিরে পেতে চলেছে।

বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে মস্তকহীন অবস্থায় থাকা চন্দেল যুগের এই ঐতিহ্যবাহী মূর্তিটি সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের (Restoration) প্রক্রিয়াকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (ASI)।

চন্দেল শিল্পের অনন্য নিদর্শন, অথচ নিখোঁজ মাথা:

খাজুরাহোর জাভারি মন্দিরে অবস্থিত ভগবান বিষ্ণুর এই মূর্তিটি প্রায় সাত ফুট উঁচু। বেলেপাথরে নির্মিত এই বিশালাকার মূর্তিটিতে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত খোদাইয়ের কাজ। অলঙ্কারে ভূষিত এই মূর্তির দুই পাশে দেবি লক্ষ্মী ও শ্রীগরুড়ের চিত্র রূপায়িত রয়েছে।

মূর্তিটির হাত, পা ও ধড় সম্পূর্ণ অক্ষত থাকলেও এর মাথাটি বহু শতক আগেই শরীর থেকে আলাদা হয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, এটি চন্দেল রাজবংশের শিল্পকলা ও স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য ও বিরল নিদর্শন।

তড়িঘড়ি যুক্ত হবে না মাথা, হবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা:

এএসআই-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও যুগ্ম মহাপরিচালক ডঃ নন্দিনী ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, মূর্তিটিকে আগের রূপ দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও হুট করে মাথা বসানোর কাজ করা হবে না।

এএসআই-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠিত হয়েছে। এই দলটিতে থাকবেন বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে:

  • মূর্তির বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ করবেন।

  • শতাব্দীর পুরনো বেলেপাথরের বহন ক্ষমতা পরীক্ষা করবেন।

  • কীভাবে যুক্ত করলে মূল স্থাপত্যের কোনো ক্ষতি হবে না, সেই বৈজ্ঞানিক কৌশল নির্ধারণ করবেন।

ডঃ নন্দিনী ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, ঐতিহ্যের মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন রাখাই এএসআই-এর প্রধান অগ্রাধিকার। ফলে কোনো তাড়াহুড়ো না করে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:

উল্লেখ্য, গত বছর রাকেশ দালাল নামের এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে এই মূর্তিটির পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ এখতিয়ার এএসআই (ASI)-এর অধীনস্থ।

ঐতিহাসিক আক্রমণের কারণে মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হলেও, ঠিক কোন সময়ে বা কীভাবে ভগবান বিষ্ণুর মাথাটি ভেঙে গিয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট ঐতিহাসিক দলিল এখনও মিলেনি। তবে এএসআই-এর এই বিশেষ পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন দেশ-বিদেশের ইতিহাসপ্রেমী ও সাধারণ পর্যটকেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *