রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেপ্তার, নির্বাচন কমিশনের গেট ভাঙার চেষ্টা! রাজধানীতে বিরোধী বিক্ষোভের জেরে তুমুল রণক্ষেত্র

নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR)-এর প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলির পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল মঙ্গলবার চরম হিংসাত্মক ও উত্তপ্ত রূপ নিল দিল্লিতে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এদিন সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে বিশাল মিছিল বের করেন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদরা। তবে মিছিল যত এগোয়, ততই পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে জাতীয় রাজধানী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ।
নির্বাচন সদনের সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ও তীব্র সংঘর্ষ
এদিন ৩০০-রও বেশি বিরোধী সাংসদ ও লক্ষাধিক সমর্থকের মহামিছিল যখন নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আকাশবাণী ভবনের সামনে আগে থেকেই জারি থাকা বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারার অজুহাত দিয়ে তাদের পথ আটকে দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সিআরপিএফ (CRPF), র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং দিল্লি পুলিশের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কমিশনের প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সহ বহু নেতাকে জোর করে আটক করে বাসে করে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
“প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন না কেন?”
গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে এবং আকাশবাণী কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থান ধর্মচলাকালীন সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন রাহুল গান্ধী। একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আজ ৩০০ জনেরও বেশি বিরোধী সাংসদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ভোট চুরির বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। আমরা কোটি কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধিত্ব করি। তা সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কেন আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন না? পুলিশ কেন আমাদের থামিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে?”
গ্রেপ্তার এড়াতে এবং প্রতিবাদ বজায় রাখতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য প্রবীণ বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত আকাশবাণী কমপ্লেক্সের ভেতরেই মাটিতে বসে অবস্থান ধর্না শুরু করেন।
সরকারকে তীব্র আক্রমণ পবন খেরা ও বিরোধী শিবিরের
বিরোধী নেতৃত্বকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ব্যাপক পুলিশি মোতায়েনের কঠোর সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে বলেন, “সরকার পুরোপুরি ভয়ে চালিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মাত্র ১০০ মিটার দূরে, অথচ দেশের প্রধান বিরোধী নেতাদের সেখানে যেতে দেওয়া হলো না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভীত, আর তাঁর ভয় পাওয়ারই কথা। তিনি যে সমস্ত অপকর্ম করেছেন, তাতে তাঁর আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।”
অন্যদিকে, সিপিআই সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “গ্রেপ্তার করে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না। আমাদের শুরু থেকেই বাধা দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু আমরা আন্দোলন আরও তীব্র করব। আজ এই লড়াইতে বহু আঞ্চলিক দলও আমাদের সঙ্গে একজোট হয়েছে।” সব মিলিয়ে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিরোধীদের এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।