বিমান সফর এবার আরও মহার্ঘ! এক ধাক্কায় টিকিটের দাম বাড়াল ইন্ডিগো, কোন রুটে কত দিতে হবে অতিরিক্ত?

আকাশপথে যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। দেশের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo) তাদের অভ্যন্তরীণ (Domestic) এবং আন্তর্জাতিক (International) উভয় প্রকার ফ্লাইটেরই ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। বিমানের জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। আজ, ৬ অক্টোবর থেকেই নতুন এই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়েছে। ডোমেস্টিক ফ্লাইটে কতটা বাড়ল ভাড়া? দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের ফুয়েল চার্জ বা জ্বালানি শুল্ক পুনর্বিন্যাস করেছে ইন্ডিগো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী—৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে যাত্রায় এখন থেকে দিতে হবে ৩৭৫ টাকা। ৫০১ থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য লাগবে ৬০০ টাকা। ২০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ফুয়েল চার্জ বাবদ গুণতে হবে ১৩০০ টাকা।উল্লেখ্য, পূর্বে এই চার্জগুলি যথাক্রমে ২৭৫, ৪০০ এবং ৯৫০ টাকা ছিল।কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?চলতি মাসেই দেশজুড়ে বিমান জ্বালানির দাম লিটার প্রতি প্রায় ১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বর্তমানে প্রতি লিটার এটিএফ-এর দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৩৭ টাকায়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে বিমানের জ্বালানির পেছনে বিমান সংস্থাগুলোকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত মাসের তুলনায় এডিএফ-এর দাম এক ধাক্কায় ১৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানির অপারেশনাল খরচ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নতুন চার্জ শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ রুটেই নয়, আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রেও রুট ও দূরত্ব অনুযায়ী ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সারচার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে: সার্কভুক্ত দেশগুলির ক্ষেত্রে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ৫০০ টাকা এবং তার বেশি দূরত্বের জন্য ১০০০ টাকা সারচার্জ লাগবে। মধ্যপ্রাচ্য, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ৫৫০০ টাকা দিতে হবে। আফ্রিকার দেশগুলির ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই চার্জ ধার্য করা হয়েছে ৬০০০ টাকা। ইউরোপের মতো দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১০,০০০ টাকা সারচার্জ বলবৎ থাকছে।সংস্থার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন পরিষেবা ও আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ইন্ডিগোর দেখাদেখি দেশের অন্যান্য বিমান সংস্থাও খুব শীঘ্রই ভাড়ার বোঝা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিমান পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা।