‘শ্রেষ্ঠ ডাক্তারদের সরানো হয়েছিল!’ এসএসকেএম হাসপাতালের অন্দরমহল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মদন মিত্রের

একসময়ে সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম (SSKM)-এর পরিকাঠামো ও রোগী ভর্তির যাবতীয় দায়িত্ব একপ্রকার ছিল কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) হাতে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেকেই সেই সময় চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু সেই এসএসকেএম হাসপাতাল নিয়েই এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন খোদ মদন মিত্র। তাঁর সরাসরি দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই নির্দিষ্ট আমলেই এসএসকেএম থেকে নাকি বরখাস্ত বা সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালের অন্তত ৪০ শতাংশ সেরা চিকিৎসককে!

শুভেন্দুর রিপোর্ট ও বিতর্ক
সম্প্রতি ২০২১ সালে মমতার পায়ে আঘাত লাগার ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের ২০২১ সালের ১১ মার্চের রেডিও ডায়াগোনাস্টিকের রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—‘নো এভিডেন্স অব ফ্র্যাকচার’ (হাড়ে কোনো ভাঙার প্রমাণ নেই)। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলেই এই মিথ্যে প্রচারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আর ঠিক কীভাবে সেই সরকারি গোপন চিকিৎসাগত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

মদন মিত্রের চাঞ্চল্যকর বক্তব্য
এই প্রসঙ্গে সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুলে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “পায়ের ফ্র‍্যাকচারের বিষয়টি পাঁচ বছর আগের। সেই কাগজ এখন শুভেন্দু অধিকারী পেলেন, অথচ তিনি তো পাঁচ বছর আগে দায়িত্বে ছিলেন না। তাই আমরা চাই সত্য প্রকাশিত হোক, মানুষ সত্যিটা জানুক। কারণ ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা অপরাধ।”

এরপরই এসএসকেএমের অন্দরের অব্যবস্থা নিয়ে বোমা ফাটান মদন মিত্র। তিনি মন্তব্য করেন, “রোগী প্রেসক্রিপশন ও প্লেট সঙ্গে নিয়ে যান, আর বাকি সমস্ত তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এসএসকেএমের মতো একটি আধুনিক হাসপাতালে সেই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকে, তা আমরা আজ আর বলতে পারব না।”

এরপর সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সেই সময় যাঁদের পদে বসানো হয়েছিল, তাঁদের আমলেই পিজির (SSKM) হাল সবচেয়ে খারাপ হয়েছিল। যাঁদের ন্যূনতম ডেপুটি সুপার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তাঁদের স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদে বসানো হয়েছিল। আর পিজি হাসপাতালের অন্তত ৪০ শতাংশ শ্রেষ্ঠ চিকিৎসককে সেই সময় জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ভদ্রলোক এমন জায়গায় তাঁদের বদলি করেছিলেন, যে তাঁদের কাছে পদত্যাগ করা ছাড়া আর বিন্দুমাত্র কোনো উপায় খোলা ছিল না।” উপনির্বাচনের আবহে এক প্রবীণ নেতার এমন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *