ডিম্বাণু ও শুক্রাণু কমছে? বেদানা কি সত্যিই ম্যাজিকের মতো কাজ করে, নাকি পুরোটাই ভুল ধারণা?

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। নারীদের ডিম্বাণু উৎপাদনের পাশাপাশি পুরুষদের মধ্যেও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার সমস্যা মারাত্মকভাবে দেখা দিচ্ছে। যার ফলে সন্তান ধারণের ক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক দম্পতিই বাবা-মা হওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশেষ করে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ও শুক্রাণুর পরিমাণ বাড়াতে বেদানা বা ডালিমের গুণের কথা প্রায়ই শোনা যায়। সমাজমাধ্যমের কল্যাণে অনেকেই এখন ডালিমকে ‘প্রাকৃতিক টেস্টোস্টেরন বুস্টার’ হিসেবে প্রচার করছেন। কিন্তু এই দাবির পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্যতা রয়েছে, তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ডালিম
বেদানায় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। কেবল প্রজনন স্বাস্থ্যই নয়, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং হজমশক্তি বাড়াতেও এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত ফল হিসেবে ডালিম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে।
টেস্টোস্টেরন বাড়াতে ডালিমের আসল কার্যকারিতা
সম্প্রতি কিছু ছোট আকারের গবেষণায় বেদানা খাওয়ার সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ফলাফলকে ঢালাওভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
গবেষণাগুলোর পরিসর ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা খুবই সীমিত হওয়ায় এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে, যা সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু শুধু ডালিম খেলেই শুক্রাণুর সংখ্যা রাতারাতি ‘হুহু করে’ বেড়ে যাবে—এমন কোনো নিশ্চিত বা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।
সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর জোর
পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণমান এবং গতিশীলতা কেবল একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত সুষম খাবার। সেই সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা করাও অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরন বা শুক্রাণু বাড়াতে কেবল একটি ফলের ওপর অন্ধের মতো ভরসা না করে সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিনের খাবারে পরিমাণমতো বেদানা রাখা নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে এটিকে কোনো জাদুকরি সমাধান বা নিশ্চিত টেস্টোস্টেরন বুস্টার হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যদি দীর্ঘদিন ধরে প্রজনন স্বাস্থ্য বা শুক্রাণু সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকে, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।