সকালে আশার আলো, বিকেলে ভয়াবহ রক্তক্ষরণ! অর্থমন্ত্রীর এক বিবৃতির জেরে হুড়মুড়িয়ে পড়ল শেয়ার বাজার

লেনদেন সপ্তাহের প্রথম দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজার একরাশ আশাবাদ নিয়ে শুরু হলেও, তা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কায় মিলিয়ে যায়। গত ২৫ বছরে টানা আট সপ্তাহ দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন যে দালাল স্ট্রিটে এবার কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। সকালের ঘণ্টা বাজার সাথেই সেনসেক্স এবং নিফটিতে উল্লেখযোগ্য কেনাবেচা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই সুসময় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নয়াদিল্লি থেকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি আসার পরেই বাজারে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেনসেক্স দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৭৫০ পয়েন্টেরও বেশি নিচে নেমে যায় এবং নিফটিরও মারাত্মক দরপতন ঘটে।

প্রাথমিক লাভের পর বাজার মন্থর ও নিমজ্জিত
লেনদেন পর্বটি একটি স্বস্তিদায়ক এবং চনমনে মেজাজেই শুরু হয়েছিল। সেনসেক্স ৭২২.২৩ পয়েন্ট লাফিয়ে বেড়ে ৭২,৬৩১.৯৩-এ পৌঁছেছিল এবং নিফটিও ১৯৯.৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ২২,৬২১.৮০-তে উঠেছিল। কিন্তু বিকেল নাগাদ বাজারের সম্পূর্ণ চিত্রটি পাল্টে যায়।

বিক্রির চাপ এতটাই তীব্র ছিল যে সেনসেক্স তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৭৯১.৭৫ পয়েন্ট কমে ৭১,৮৪০.১৮ পয়েন্টে এসে ঠেকে। একইভাবে নিফটিও দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ২২৪.৭০ পয়েন্ট কমে ২২,৩৯৭.১০ পয়েন্টে নেমে আসে। বাজারের এই আকস্মিক পতনের পেছনে অভ্যন্তরীণ কোনো অর্থনৈতিক তথ্য নয়, বরং নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠান থেকে আসা খবরের বড় ভূমিকা ছিল।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি থমকে যাওয়ার কারণ কী?
মানি কন্ট্রোলের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একেবারে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন প্রায় স্থবির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থায় মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, দীর্ঘ আলোচনা ও বেশ কয়েক দফা দর কষাকষির পর উভয় পক্ষ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে সামনে এগোনো অত্যন্ত কঠিন ঠেকছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো দেশই নতুন করে কিছু ছাড় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য বর্তমানে ভারতের অনুকূলে থাকায় এবং আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি অব্যাহত থাকায় মার্কিন প্রশাসন তাদের দেশ থেকে আরও বেশি পণ্য কেনার জন্য ভারতের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

শুল্ক নীতি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির বক্তব্য
বাণিজ্য ঘাটতির পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী চিনের উদাহরণও টেনে আনেন। তিনি বলেন যে আমদানি শুল্ক এখন আর নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এই মুহূর্তে চুক্তিটি আসন্ন নয়। জি-২০ বৈঠকের সময় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হলেও, যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে তা সমাধানের জন্য এখনও কাজ চলছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার এই চুক্তির অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাট না হওয়া পর্যন্ত দালাল স্ট্রিটে অস্থিরতা ও ওঠানামা অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *