সিনেমার দুনিয়ায় বিরাট বিপ্লব! এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সিনেমা বানানো শেখাবে খোদ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

চলচ্চিত্র নির্মাণ বা ফিল্ম মেকিংয়ের (Film Making) দুনিয়ায় কেরিয়ার গড়তে ইচ্ছুক তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (Delhi University)। বর্তমান প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে সিনেমা তৈরির কলাকৌশল শেখাতে চলেছে ডিইউ। ক্যাম্পাসের ‘ক্যাম্পাস অফ লার্নিং’ (COL)-এর উদ্যোগে খুব শীঘ্রই ‘AI ইন ফিল্ম মেকিং’ নামের একটি নতুন এবং যুগোপযোগী ৬ মাসের স্কিল কোর্স চালু করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কবে থেকে শুরু এবং কারা আবেদন করতে পারবেন?
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিওএল (COL)-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, এই নতুন কোর্সের সমস্ত প্রস্তুতি এখন একেবারে অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এই কোর্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (12th Pass) উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক (Graduates) এবং স্নাতকোত্তর (Post Graduates) ডিগ্রিধারী তরুণেরাও এই কোর্স করার সুযোগ পাবেন।
৬ মাসের এই কোর্সের বিশেষত্ব কী?
এই বিশেষ কোর্সের সিলেবাস এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা এআই (AI)-এর মাধ্যমে প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারেন। কোর্সে ভর্তি হওয়া প্রার্থীরা সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন আধুনিক টুল ব্যবহার করে শর্ট ফিল্ম, বিজ্ঞাপন ভিডিও এবং অন্যান্য আকর্ষক ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা দৃশ্যমান সামগ্রী তৈরি করা শিখবেন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, দিল্লি ইউনিভার্সিটির সিওএল-এর নিজস্ব অত্যাধুনিক স্টুডিও রয়েছে। ফলে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এই স্টুডিওর ভেতরেই রিয়েল-টাইম ফিল্ম মেকিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
কর্মসংস্থান ও উপার্জনের নতুন দিগন্ত
ভারত সরকারের ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ (Orange Economy) বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার নীতিকে সামনে রেখেই এই বিশেষ কোর্সটি সাজানো হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বাস, এই ৬ মাসের কোর্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা শর্ট ফিল্ম তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও প্রোডাকশন, বিজ্ঞাপন এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো অংকের উপার্জন শুরু করতে পারবেন।