রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি ইউক্রেন! মার্কিন মধ্যস্থতার এই প্রস্তাবে কি তবে কাটবে যুদ্ধের মেঘ?

দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথে বড় পদক্ষেপ করল ইউক্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়াকে নিয়ে একটি নতুন দফার শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে ইউক্রেন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে রবিবার ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)। আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় প্রযুক্তিগত বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে কিয়েভ।
মার্কিন প্রস্তাব ও সম্ভাব্য ভেন্যু
কিয়েভে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৰ্জ (Friedrich Merz)-এর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলেনস্কি জানান যে, মার্কিন নির্ধারিত সময়সীমা ও প্রস্তাবকে তাঁরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন। এই ত্রিদেশীয় বৈঠকটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)— যা অতীতেও বিভিন্ন শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছে— কিংবা ওয়াশিংটন কর্তৃক প্রস্তাবিত অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আমেরিকান মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে কিয়েভ এবং মস্কো উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই আলোচনার প্রস্তাব রাশিয়ার কাছে পেশ করা হয়েছে এবং এখন কেবল মস্কোর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন। এর আগে পূর্বের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা (যেমন স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার) রাশিয়া ও ইউক্রেনকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার এই নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তীব্র রুশ আক্রমণ ও জার্মানির বিশাল আর্থিক সাহায্য
এদিকে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগের মাঝেই যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলা তীব্রতর করেছে। এর জবাবে কিয়েভও রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক পরিকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে কিয়েভ সফর করে ইউক্রেনের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৰ্জ। আসন্ন শীতের কথা মাথায় রেখে তিনি ইউক্রেনের জন্য ১.৩ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি নতুন সহায়তার ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা এবং প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা সত্ত্বেও কিয়েভ বারবার আলোচনার টেবিলে ফেরার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে কৃষ্ণ সাগরের বাণিজ্যপথ, শস্য ও জ্বালানি রপ্তানি এবং হামলা বন্ধের মতো বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারত সহ অন্যান্য বিশ্বশক্তিগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।