১২ দিন বন্ধ থাকবে রেশন পরিষেবা, চরম বিপদের আগে জেনে নিন জরুরি তারিখ

অক্টোবর মাস মানেই উৎসবের মরশুম, চারদিকে ছুটির মেজাজ। কিন্তু এই খুশির আবহেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার মতো এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুজো এবং একাধিক ছুটির কারণে চলতি অক্টোবর মাসে মোট ১২ দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে চলেছে রেশন দোকান। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য না তুললে বড়সড় সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ গ্রাহকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর আগেই সমস্ত মাসিক বরাদ্দ তুলে নেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন’।

প্রতি মাসের নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন রেশন পরিচালন ব্যবস্থা বা পোর্টাল আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মসৃণ রাখতে মাসের প্রথম ও শেষ দিন গ্রাহকদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। চলতি মাসে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর ছুটির কারণে ৩ অক্টোবর থেকে রেশন বন্টন শুরু হয়েছে।

তবে এরপরেই রয়েছে একগুচ্ছ ছুটির জট। মহালয়া, দুর্গাপুজোর সপ্তমী থেকে দশমী, লক্ষ্মীপুজো এবং প্রতি সপ্তাহের সোমবারের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধ—সব মিলিয়ে এই মাসে মোট ১২ দিন রেশন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, প্রতি মাসেই অনলাইন সার্ভার ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে রেশন দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তার ওপর এই মাসে ছুটির তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, আগামী ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীর আগেই গ্রাহকদের তাঁদের মাসিক বরাদ্দের খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে নেওয়ার জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারি অফিসগুলিতে ১৫ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুজোর ছুটি থাকলেও, এনআই (NI) অ্যাক্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট ছুটির দিনগুলিতে রেশন দোকানগুলি বন্ধই রাখা হবে।

১ কোটি ৫৮ লক্ষ রেশন কার্ড নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত!

রেশন তোলার এই ঝামেলার মাঝেই দেশের কোটি কোটি কার্ডধারীদের জন্য আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আপনার কাছে রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও যদি দীর্ঘ সময় ধরে তা ব্যবহার না করে থাকেন, তবে এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। কারণ, টানা ছ’মাস ধরে রেশন না তোলা হলে সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলিকে ‘ইনঅ্যাক্টিভ’ বা নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

সূত্রের খবর, দেশজুড়ে এই মুহূর্তে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এমন রেশন কার্ড রয়েছে যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই কার্ডগুলি একেবারে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হচ্ছে না; বরং সাময়িকভাবে সেগুলির কার্যকারিতা স্থগিত বা ডিঅ্যাক্টিভেট করা হবে।

নিষ্ক্রিয় কার্ড সচল করার নিয়ম কী?

যে সমস্ত কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হবে, সেইগুলির উপভোক্তাদের কার্ডের বৈধতা এবং খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাইকরণ (Verification) এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই কার্ডগুলি পুনরায় সচল করে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। মূলত গণবণ্টন ব্যবস্থা বা PDS-এর ডেটাবেস আরও নিখুঁত ও স্বচ্ছ করতেই এই উদ্যোগ। তালিকায় থাকা মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া, ডুপ্লিকেট কার্ড বা ভুয়া নাম সরাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *