“আগে থেকেই ঠিক করা থাকে ভোটের ফল!” নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে কোন বোমা ফাটালেন সিজেপি নেতা?

একদিকে লাগাতার নির্বাচনী সাফল্য, অন্যদিকে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র আক্রমণ—সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক ময়দার পারদ সবসময়ই চড়া থাকে। সম্প্রতি বিজেপির টানা জয়ের তীব্র সমালোচনা করে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মী অভিজিৎ দিপকে। তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, একসময়ে ‘মোদী হাওয়া’ তুঙ্গে থাকার সময়ও যে সমস্ত রাজ্যগুলিতে বিজেপি জয়ী হতে পারেনি, বর্তমানে সেখানেও তারা অত্যন্ত সহজে জয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছে। আর এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

কী করে অনায়াস জয় পাচ্ছে BJP?
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দিপকে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “মোদী হাওয়ার সময়ও বিজেপি যেখানে জিততে পারেনি, এখন সেখানেও তারা অনায়াসে জিতছে। আর এই পুরো বিষয়টা হচ্ছে জ্ঞানেশ কুমারের জন্য। যেদিন জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়বেন এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ হবে, সেদিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে বিজেপি আসলে কতগুলো আসনে জেতে।”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলে তিনি আরও জানান, দেশের বর্তমান নির্বাচনগুলির ফলাফল এখন আগে থেকেই “ফিক্সড” বা ঠিক করা থাকে, তাই এই ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থই হয় না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটে অংশ না নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের পরীক্ষা ব্যবস্থা ও এমপিসি আন্দোলন নিয়ে তোপ
এদিন পুনেতে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপিসি) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম এবং পড়ে থাকা নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন দিপকে। সেখানে গিয়ে তিনি শাসক দলের তীব্র প্রশাসনিক সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা—উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের আস্থা বর্তমানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও সরকার বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে এমপিসি চেয়ারম্যানেরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। সিজেপি এই ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিপকে।

নির্বাচন কমিশন ও অন্দরের বিতর্ক
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টের পর নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের প্রযুক্তিগত সিস্টেম সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।

যদিও নির্বাচন কমিশন সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে জানিয়েছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই ভিন্নমতগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক মতবিরোধ বলা চলে না। খসড়া পর্যায়ে প্রশ্ন বা মতামত পেশ করা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তাছাড়া এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে স্পষ্ট জানিয়েছে পোল প্যানেল। তবে বিরোধী শিবিরের একের পর এক অভিযোগে এই ইস্যু বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম হট টপিক হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *