রান্নাঘরের সবচেয়ে বড় বিপদ হতে পারে প্রেশার কুকার! এই ভুলটি করলেই ঘটতে পারে মারাত্মক বিস্ফোরণ

চটজলদি রান্না করার জন্য প্রেশার কুকারের জুড়ি মেলা ভার। এতে একদিকে যেমন খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়, তেমনই রান্নার গ্যাসও সাশ্রয় হয়। কিন্তু একটুখানি অসাবধানতা বা অবহেলা আপনার রান্নার ঘরটিকে নিমেষে এক বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত করতে পারে। সামান্য ভুলের জেরে বড়সড় বিস্ফোরণ পর্যন্ত ঘটতে পারে প্রেশার কুকারে।
কুকার ফাটার আসল কারণ কী?
অনেকেই বাড়িতে নিয়মিত ভাত বা ডাল রান্নার জন্য প্রেশার কুকার ব্যবহার করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, রান্নার সময় ভাতের ফ্যান বা ডালের ফেনা উথলে উপরে উঠে এসে হুইসেল বা সিটির অংশটি সম্পূর্ণ আটকে দেয়। এর ফলে কুকার বসালেও আর সিটি বাজে না। আর হুইসেল না বাজলে কুকারের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত বাষ্প জমে গিয়ে সেটি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
হুইসেল পরিষ্কার করার দারুণ উপায়
আপনার কুকারের হুইসেলেও যদি এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তবে ঘরোয়া উপায়ে তা সহজেই পরিষ্কার করে নেওয়া সম্ভব:
প্রথমে একটি পাত্রে কিছুটা উষ্ণ গরম জল নিন।
এবার সেই জলে কিছুটা লিকুইড ডিটারজেন্ট এবং এক প্যাকেট ‘ইনো’ (Eno) পাউডার মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।
এরপর কুকারের হুইসেল এবং তার আশপাশের নোংরা অংশগুলি ওই মিশ্রণে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন।
ইনোর রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং গরম জলের জাদুতে হুইসেলের ভেতরে জমে থাকা জেদি তেল ও ময়লা সহজেই নরম হয়ে যাবে।
এরপর একটি পাতলা পিন বা পুরোনো টুথব্রাশের সাহায্যে ভেতরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। সবশেষে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই কুকারের হুইসেল নতুনের মতো চকচকে ও সচল হয়ে উঠবে।
আরও কিছু জরুরি সতর্কতা
প্রেশার কুকারে রান্না বসানোর আগে এর রাবার বা গ্যাসকেটটি ঠিকমতো লাগানো আছে কি না, তা সবসময় দেখে নিন।
সেফটি ভালভ বা সেফটি পিনটিতে কোনো ময়লা বা কণা আটকে রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করা জরুরি।
কুকার গ্যাসে বসানোর দীর্ঘক্ষণ পরেও যদি সিটি না বাজে, তবে বুঝবেন রাস্তা আটকে গেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অবিলম্বে গ্যাসের নব বন্ধ করে দিন।
রান্না শেষের পর জোর করে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করবেন না। কুকারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বাষ্প বা বাতাস প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই কেবল ঢাকনা খোলা উচিত। সামান্য সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবন রক্ষা করতে পারে।