ইন্দো-প্যাসিফিকে বাড়ছে চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ! চার লক্ষ সেনা ও পাঁচ রণতরীর কমান্ডার সোজা ভারতে, নেপথ্যে কোন বড় ছক?

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে বর্তমানে সরকারি সফরে ভারতে অবস্থান করছেন মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে. পাপারো (Admiral Samuel J. Paparo)। চলতি বছরের ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই উচ্চপর্যায়ের সফরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতে পৌঁছানোর পর অ্যাডমিরাল পাপারোকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও এজেন্ডা
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সফরকালে ভারতীয় সামরিক নেতৃত্ব ও সমকক্ষদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন অ্যাডমিরাল পাপারো। বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত জগৎ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা এই আলোচনার অন্যতম মূল লক্ষ্য।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
ডিজিটাল রূপান্তর ও উদীয়মান প্রযুক্তি: আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে পারস্পরিক যৌথ উদ্যোগ।
কৌশলগত স্থিতিশীলতা: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা।
জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা: প্রতিরক্ষা খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল মজবুত করার সুনির্দিষ্ট উপায় খোঁজা।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা: ভারত মহাসাগরীয় ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক সহযোগিতা ও জলপথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক কমান্ডের নেতৃত্ব
উল্লেখ্য, অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে. পাপারো বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক কমান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর অধীনে রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মী, পাঁচটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী, প্রায় ২০০টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং ১,০০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান। ফলে তাঁর এই ভারত সফর কেবল একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী উপস্থিতি ও কৌশলগত স্বার্থকে জোরালোভাবে পুনঃনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নতুন সামরিক প্রযুক্তি, উন্নত সামুদ্রিক ক্ষেত্র এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই যৌথ অংশীদারিত্ব ভারতের আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও সামরিক মহল।