মাঠে মহিষ খুঁজতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে স্বামী-স্ত্রী সহ এক রাতেই মৃত ৩, শিউরে ওঠা কাণ্ড

বিহারের সীতামঢ়ী জেলার বৈরগানিয়া ব্লক থেকে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। শনিবার ভোররাতে খেতের ফসল বন্য শূকরের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পেতে রাখা একটি খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে স্বামী-স্ত্রী সহ মোট তিন জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিরীহ মানুষের জন্য এই অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ কীভাবে একটি সাক্ষাৎ ‘মৃত্যুফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছিল, তা দেখে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও। বৈরগানিয়া থানা এলাকার আক্তা পশ্চিম চকওয়া পঞ্চায়েতের তাকিয়া টোলায় (ওয়ার্ড নং ৫) এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই বিপর্যয়?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে এক গ্রামবাসীর একটি মহিষ তার খোঁয়াড় থেকে পালিয়ে যায়। ভোরের অন্ধকারে সেই মহিষের খোঁজে মাঠে নেমেছিলেন গ্রামবাসীরা। মোহাম্মদ ইসলাম মনসুরি নামের এক ব্যক্তি সবার প্রথমে ওই খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন এবং ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দীর্ঘক্ষণ স্বামী বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়ে যান তাঁর স্ত্রী রুবাইদা খাতুন। এরপর স্বামীকে খুঁজতে তিনি নিজেই মাঠে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যাওয়ার পরই তিনিও মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঠিক একই সময়ে তাঁদের উদ্ধার করতে আসা আসমত আলী নামের আরও এক গ্রামবাসীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।
পাওয়া গেল মৃত বুনো শূকরও
সকালে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যে দৃশ্য দেখেন, তাতে সকলের চোখ কপালে ওঠে। তিন গ্রামবাসীর নিথর মরদেহের পাশেই দুটি মৃত বুনো শূকরও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, জমির ধান ফসল বন্য শূকরের হাত থেকে বাঁচাতে মাঠে খোলা লোহার তার বিছিয়ে তার মধ্যে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, সবাইকে উদ্ধার করতে গিয়ে সাইফ আলী নামের আরও এক গ্রামবাসী গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সীতামঢ়ী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনাস্থলে মৃতদেহগুলির পাশাপাশি দুটি মৃত বুনো শূকরও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বৈরগানিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ গোটা এলাকার ভিডিওগ্রাফি করে এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বৈরগানিয়া থানার কর্মকর্তা অরবিন্দ গিরি সংবাদমাধ্যমকে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, বন্য শূকরের হাত থেকে ধানের ফসল রক্ষা করার অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষেতের চারপাশে খোলা তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ফাঁদের সংস্পর্শেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কৃষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একই গ্রামের তিন জনের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে পাথর হয়ে গেছে মৃতদের পরিবারগুলি। সেই সঙ্গে এমন বিপজ্জনক ও বেআইনি পথ অবলম্বনকারী কৃষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।