কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর! নতুন বছরেই কি একলাফে ৬৭ শতাংশ হতে চলেছে মহার্ঘ ভাতা?

দেশের শিল্প শ্রমিকদের জন্য প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচক বা ‘কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স’ (CPI-IW)-এর সাম্প্রতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক বিরাট আশার আলো দেখা দিয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) একলাফে বেড়ে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।
কী বলছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান?
‘স্টাফনিউজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে CPI-IW সূচক ১.২ পয়েন্ট বেড়ে ১৫৪.৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এর জেরে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য সম্ভাব্য ডিএ বা ডিআর-এর হিসাব ইতিমধ্যেই ৬৫.০৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। তবে চূড়ান্ত হারটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর—এই চার মাসের CPI-IW সূচকের ওঠানামার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আগামী মাসগুলিতে এই সূচক আগস্ট মাসের স্তরেই অপরিবর্তিত থাকে, তবে সম্ভাব্য ডিএ-র হার আরও বেড়ে নভেম্বর নাগাদ প্রায় ৬৬.৯১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। শেষ পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ও চূড়ান্ত সূচকের হাত ধরে তা ৬৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছানোই স্বাভাবিক।
বেতন কত বাড়তে পারে?
বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর ডিএ-র হার রয়েছে ৬৩ শতাংশ। যদি নতুন বছরে তা বেড়ে ৬৭ শতাংশে দাঁড়ায়, তবে বর্তমান হারের তুলনায় তা সরাসরি ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে।
কর্মীদের সম্ভাব্য আর্থিক লাভের একটি হিসাবও সামনে এসেছে:
৩০,০০০ টাকা মূল বেতন: এই স্কেলের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ বৃদ্ধির অর্থ প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১,২০০ টাকা ডিএ প্রাপ্তি। অর্থাৎ বছরে ১৪,৪০০ টাকা বাড়তি।
৪০,০০০ টাকা মূল বেতন: মাসে ১,৬০০ টাকা বৃদ্ধি পেলে বার্ষিক অতিরিক্ত আয় হবে ১৯,২০০ টাকা।
৫০,০০০ টাকা মূল বেতন: প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা বাড়তি হিসেবে বছরে ২৪,০০০ টাকা অতিরিক্ত মিলবে।
৬০,০০০ টাকা মূল বেতন: মাসে ২,৪০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বার্ষিক বাড়তি টাকার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২৮,৮০০ টাকা।
অবশ্য ২০২৭ সালের জানুয়ারির জন্য ডিএ-র প্রকৃত হার এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সূচকের বাকি চারটি পরিসংখ্যান হাতে আসার পরেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেবে কেন্দ্র।
প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি কর্মচারী সংগঠনের
এদিকে, ‘কনফেডারেশন অফ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স’ ইতিমধ্যেই ‘ডিপার্টমেন্ট অফ এক্সপেন্ডিচার’-এর কাছে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ২০২৬ সালের জুলাই মাসের ডিএ কিস্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে কোনও রকম অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বকেয়া পাওনা ও সংশোধিত হার দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হোক।