তুরস্কের নাগরিক সেজেও শেষরক্ষা হলো না! ভারতের জালে কুখ্যাত নারকো-কিংপিন নবপ্রীত সিং

আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী ও কুখ্যাত নারকো-কিংপিন নবপ্রীত সিংকে (Navpreet Singh) তুরস্ক থেকে সফলভাবে ভারতে প্রত্যর্পণ (Deportation) করে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বড় সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির দীর্ঘ ও নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে এই আন্তর্জাতিক মাদক সম্রাটকে ভারতের মাটিতে এনে শ্রীঘরে পাঠানো সম্ভব হলো।

চাঞ্চল্যকর তথ্য: জাল পরিচয় ও তুরস্কের নাগরিকত্ব
ভারতীয় গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে ও গ্রেপ্তার এড়াতে নবপ্রীত সিং এক অভিনব ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। সে ‘নবাব ভির্ক’ (Navab Virk) নামে একটি সম্পূর্ণ জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে এবং সেই ভুয়া পরিচয়েই তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, তুরস্কে নিরাপদে অবস্থান করেও সে আফগানিস্তান থেকে ভারতজুড়ে হিরোইন (Heroine) এবং মেথঅ্যামফিটামিন (Methamphetamine)-এর মতো প্রাণঘাতী মাদকের আন্তর্জাতিক পাচারচক্রটি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করত।

ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নবপ্রীতের একাধিক ভুয়া পরিচয়ের পর্দা ফাঁস করে শেষ পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর তুর্কি প্রশাসনের সাথে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুযায়ী সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।

২০২৯-এর মধ্যে নারকো-কার্টেল ধ্বংসের সংকল্প
এই বিশাল সাফল্যে দেশের সমস্ত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “তুরস্কে ‘নবাব ভির্ক’-এর ভুয়ো পরিচয় নিয়ে লুকিয়ে থাকা এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে হিরোইন ও মেথ পাচার চালানো কুখ্যাত অপরাধী নবপ্রীত সিংকে আমাদের সংস্থাগুলি মুখোশ খুলে বন্দি করে এনেছে। আজ তাকে ভারতে এনে কারাবন্দি করা হয়েছে।”

অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করে বলেন, মোদী সরকার ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সমস্ত নারকো-কার্টেল পুরোপুরি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর এবং এই প্রত্যর্পণ সেই লক্ষে এক “ঐতিহাসিক মাইলফলক”।

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা মাদক পাচারকারী মহম্মদ সেলিম দোলাকেও তুরস্ক থেকে ভারতে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া মে মাসে আজারবাইজান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মাদক চক্রের প্রধান সহযোগী প্রভদীপ সিংকে। পরপর এই সাফল্য ভারতের আন্তর্জাতিক ড্রাগ নেটওয়ার্ক ভাঙার লড়াইয়ে এক বিশাল জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *