“জিহাদি সন্ত্রাসবাদী হামলা!”-ভারতীয় পাইলটের উপর হামলার নেপথ্যে কোন গভীর ষড়যন্ত্র? মুখ খুললেন ট্রাম্পও

‘ফ্লাইদুবাই’ বিমানের ককপিটে রোমহর্ষক কাণ্ডের দু’দিন অতিক্রান্ত হলেও, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলাকারী ওমানি সহ-পাইলটের আসল পরিচয় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার পর সেখানকার পুলিশ অভিযুক্ত কো-পাইলটকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইজ়রায়েল হায়ম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহ-পাইলট গত ৯ মাস ধরে ফ্লাইদুবাই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে ওমানেরই নাগরিক এবং তাঁর অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি আমেরিকান টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত সহ-চালক আগে থেকেই উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত এবং আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড ঘেঁটে প্রাথমিকভাব এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ইজ়রায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সারও একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইজ়রায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটানো। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই মুহূর্তে এই দাবির সপক্ষে সরাসরি কোনো অকাট্য প্রমাণ হাতে আসেনি।

এদিকে, ‘ইজ়রায়েল ন্যাশনাল নিউজ়’ নামক একটি সংবাদমাধ্যম আমিরশাহির এক সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী কো-পাইলট দীর্ঘদিন ধরেই প্রবল ইজ়রায়েল-বিরোধী মনোভাব পোষণ করতেন। বিমান দুর্ঘটনার পর তাঁর ব্যাগপত্র তল্লাশি করে বেশ কিছু ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিফলেট, বই এবং প্রচার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখব। তবে আমার কাছে যে তথ্য আসছে, তাতে উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।” সবমিলিয়ে, এই হামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে এখন তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *