স্মিতকে নিয়ে গর্বিত গোটা দেশ, তাঁর পদবি ‘মচ্ছর’-এর অর্থ কী? জানুন বিস্তারিত

ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র বলেছিলেন, “নামে কী এসে যায়! গোলাপকে অন্য নামে ডাকলেও তার সুবাস একই থাকে।” অর্থাৎ, মানুষের আসল পরিচয় তাঁর কাজ ও কৃতিত্বেই। সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে ঠিক সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। তবে এই ঘটনার পর থেকেই গোটা বিশ্বজুড়ে তাঁর সাহসিকতার পাশাপাশি তাঁর পদবি নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনেকের মনেই কৌতূহল জেগেছে, হিন্দি শব্দ ‘মচ্ছর’-এর অর্থ কি তবে মশা? এই পদবি কীভাবে এল?

পদবি ও তার আসল অর্থ

হিন্দি বা গুজরাটি ভাষায় ‘মচ্ছর’ (Machchhar) শব্দের আক্ষরিক অর্থ মশা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অদ্ভুত শব্দটি কীভাবে একটি পরিবার বা বংশের পদবি হয়ে উঠল? ইন্ডিয়া টুডে-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মচ্ছর একটি অত্যন্ত পরিচিত গুজরাটি পদবি। বিশেষ করে গুজরাটের ব্রাহ্মণ ও লোহানা সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এই পদবি দেখতে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে পশুপাখির নাম বা কীটপতঙ্কের নাম পদবি হিসেবে ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। যেমন— হাতি, ঘোড়া, কিংবা টিয়া পাখি বা পোপটের মতো শব্দও সেখানে পদবি হিসেবে প্রচলিত।

সাংবাদিক শীলা ভট্টের মতে, ক্যাপ্টেন স্মিত গুজরাটি ব্রহ্মক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের হালারি শাখার অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি নগর ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের এক মিশ্রণ। প্রখ্যাত অধ্যাপক বিনোদিনী নীলকণ্ঠ তাঁর ‘Gujarati Atakono Itihas’ (১৯৪২) বইটিতে উল্লেখ করেছিলেন যে, অতীতে স্থান, পেশা, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, ডাকনাম বা অনেক সময় ঠাট্টা-মশকরা করেও বিভিন্ন নাম পরবর্তীকালে পারিবারিক পদবিতে পরিণত হয়েছে।

নামের উৎপত্তি নিয়ে কী বলছে ইতিহাস?

‘মচ্ছর’ পদবির উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। একটি মত অনুযায়ী, সংস্কৃত শব্দ ‘মৎসর’ বা ঈর্ষার মতো শব্দ থেকে অপভ্রংশ হয়ে উচ্চারণের পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘মচ্ছর’ শব্দটি এসেছে। আবার অন্য একটি মত বলছে, যে অঞ্চলে এই পদবির উৎপত্তি হয়েছিল, সেখানে অতীতে মশার উপদ্রব খুব বেশি ছিল। এছাড়া ভৌগোলিক কারণ বা নির্দিষ্ট কোনো গ্রামের নাম থেকেও অনেক পদবি আসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে গুজরাটে।

সবমিলিয়ে, মাঝ আকাশে চরম বীরত্ব দেখিয়ে খবরের শিরোনামে আসা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের পদবির এই অনন্য ইতিহাস এখন নেটপাড়ায় হটকেক। কাজের সূত্রে তিনি যেমন কোটি কোটি মানুষের মন জয় করেছেন, তেমনই তাঁর এই অদ্ভুত পদবিও সাধারণ মানুষের কৌতূহলকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *