খরচ কমাতে ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এই বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা! কোপ পড়বে বড় পদগুলিতে

আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হতে চলেছে। কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দ্রুত আগ্রাসনের জেরে এবার আরও এক ধাক্কা খেতে চলেছে বিশ্ব বাজার। জার্মান অটোমোবাইল জায়ান্ট বিএমডব্লিউ (BMW) ঘোষণা করেছে যে, আর্থিক স্থায়িত্ব ফেরাতে তারা কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ছাঁটাই করতে চলেছে। আর এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় কোপ পড়তে চলেছে ম্যানেজার ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ওপরেই।
সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখে আয়োজিত এক ইনভেস্টার সামিটে সংস্থার পক্ষ থেকে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে কোম্পানির সিইও মিলান ল্যাডেলজোকোভিচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোম্পানির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করতেই এই খরচ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার টার্গেট নিয়েছে বিএমডব্লিউ। ইতিমধ্যেই গত জুলাই মাসে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিষয়ে ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছে সংস্থা, যা তাদের মোট বৈশ্বিক কর্মীশক্তির প্রায় ৫ শতাংশ।
কাজের মডেলে বড় বদল আনছে এআই
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এখন অনেক জটিল কাজ অনেক কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। গাড়ির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে উৎপাদন, বিক্রি এবং কাঁচামাল সংগ্রহের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ইতিমধ্যেই ৬০০-র বেশি এআই কেস ব্যবহার করছে বিএমডব্লিউ। আগামী দিনে এই নির্ভরতা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে। ফলস্বরূপ, ম্যানেজার বা উচ্চপদস্থ স্তরে কম কর্মী নিয়েই সংস্থার কাজ মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করছে ম্যানেজমেন্ট।
অন্যান্য সংস্থাতেও ছাঁটাইয়ের খাঁড়া
শুধু বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট এবং খরচ ছাঁটাইয়ের এই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছে অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থাও। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাডিডাসও ভারতে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত পাকা করেছে। সংস্থার গুরুগ্রামের টেক হাবে প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হতে পারে বলে খবর। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ডেটা সায়েন্টিস্ট, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির ওপর। প্রযুক্তি ও এআই-এর যুগে কর্পোরেট দুনিয়ায় এই একের পর এক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কর্মপ্রার্থীদের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল, তা বলাই বাহুল্য।