এশিয়ান গেমসে চরম লজ্জার নজির! যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগে জাপানের আসর থেকে বহিষ্কৃত ভারতীয় হকি কর্মকর্তা

যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ! এশিয়ান গেমস থেকে মাঝপথেই দেশে ফেরানো হলো ভারতীয় হকি আম্পায়ারকে

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বড়সড় বিতর্কে জড়াল ভারতীয় হকি। যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ ওঠায় জাপানে চলতি এশিয়ান গেমস থেকে আচমকাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ভারতীয় হকি আম্পায়ার তথা টেকনিক্যাল অফিসিয়াল গুরিন্দর সিং সাঙ্গাকে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অসদাচরণ ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।

হকি ইন্ডিয়ার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, জাপানের নাগোয়ায় গেম চলাকালীন মালয়েশিয়ার এক মহিলা হকি আধিকারিকের সঙ্গে সাঙ্গা অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। শুধু তাই নয়, হোটেলের এক কর্মীর সঙ্গেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পরেই তাঁকে এশিয়ান গেমস থেকে তৎক্ষণাৎ অব্যাহতি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এশিয়ান হকি ফেডারেশনের রিপোর্টের অপেক্ষায় হকি ইন্ডিয়া

নিয়ম অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসের সমস্ত আম্পায়ার এবং টেকনিক্যাল অফিসিয়ালদের নিয়োগ করে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (AHF)। ফলে এই বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে ফেডারেশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

হকি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত আম্পায়ার দু’দিন আগেই জাপান ছেড়েছেন। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে দেশের হকি নিয়ামক সংস্থা। তবে বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই অভিযোগগুলিকে আইনিভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে না দেখে প্রাথমিক অভিযোগ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

অতীতেও উঠেছিল বিতর্কিত অভিযোগ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরিন্দর সিং সাঙ্গার বিরুদ্ধে এর আগেও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হকি ইন্ডিয়া লিগ চলাকালীন এক মহিলা আম্পায়ার তাঁর বিরুদ্ধে অনভিপ্রেত আচরণের অভিযোগ এনেছিলেন। সেই সময় হকি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে সেবার তদন্তে সাঙ্গার বিরুদ্ধে জোরালো বা উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছিল হকি ইন্ডিয়া।

এদিকে, ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে আইওএ বা হকি ইন্ডিয়ার সরাসরি প্রশাসনিক কোনো যোগ নেই, কারণ এই পদগুলিতে নিয়োগের পুরো দায়িত্ব এএইচএফ-এর হাতেই থাকে। পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় ক্রীড়ামহলে অস্বস্তি অনেকটাই বেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *