“আমাকে অন্ধ্রের ছেলেই ভাবুন!” রায়লসীমাকে বিশ্বের ‘ফ্রুট বোল’ গড়তে ১ লক্ষ কোটির মেগা প্রজেক্ট ঘোষণা অনন্ত আম্বানির

অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষি অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রাজ্যের খরাপ্রবণ রায়লসীমা অঞ্চলকে বিশ্বমানের ‘ফ্রুট বোল’ বা ফলের ভাণ্ডারে পরিণত করতে ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। অন্নমাইয়া জেলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এবং মন্ত্রী নারা লোকেশ। অনুষ্ঠানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি উপস্থিত থেকে ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এগ্রিকালচারকে (ISA) সংস্থার তরফে সমস্ত রকম পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে অনন্ত আম্বানি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর আস্থার জন্য এবং এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের অংশ হওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে আপনাদের রাজ্যের ছেলেই বিবেচনা করবেন।” তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পশুকল্যাণে অনন্তের বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।
প্রকল্পের মূল রূপরেখা ও বিনিয়োগ প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশাল গ্লোবাল হর্টিকালচার হাবের মাধ্যমে ১০টি জেলার প্রায় ৫,৮৬০টি গ্রাম এবং ২০১টি ক্লাস্টারকে এর আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজ্যের হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন চাষ আরও ৬ লক্ষ একর জমিতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সিড-টু-শিপমেন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, সঠিক সেচ ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাজারের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে রায়লসীমার কৃষকেরা ফল উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য পাবেন। এই পুরো কার্যক্রমে ‘সিড-টু-শিপমেন্ট’ (বীজ থেকে শুরু করে জাহাজে পণ্য প্রেরণ পর্যন্ত) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ চাষাবাদ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ, লজিস্টিক্স এবং সরাসরি রফতানি—কৃষির পুরো ভ্যালু চেনকে এই আধুনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
পাশাপাশি, মাদনাপল্লের ইন্ডিয়ান স্কুল অফ এগ্রিকালচার (ISA)-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল কৃষি, প্রিসিশন ফার্মিং বা নিখুঁত চাষাবাদ, এগ্রি-বিজনেস এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির মতো আধুনিক বিষয়গুলির ওপর শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যা আগামী দিনে দেশের কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।