শীত আসতেই কি নাগালের বাইরে চলে যাবে গ্যাসের দাম? কাতার সংকটে মাথায় হাত পড়তে চলেছে ভারতের!

আসন্ন শীতের মরশুমে ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) আমদানির খরচ আরও আকাশছোঁয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার জেরে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর ওপর আবার ইউরোপে শীতকালে গ্যাসের চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কার্গো কেনার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র রূপ নেবে। ফলে ভারতকে বাধ্য হয়েই বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই বেশ উত্তপ্ত। জাপানের বৃহত্তম ক্রেতা জেরার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কাতার থেকে সরবরাহ খুব দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এলএনজির স্পট মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা আসন্ন শীত নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যোগান বাড়লেও ঘাটতি কাটছে না

যদিও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে এলএনজি পরিবহণ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেপ্টেম্বর মাসে এই জলপথ দিয়ে মাত্র ১৯টি এলএনজি কার্গো পারাপার করেছে, যার মধ্যে ১৩টি কাতার এবং ৬টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। জুনের তুলনায় এই সংখ্যা সামান্য বেশি মনে হলেও, গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় সরবরাহ এখনও প্রায় ৮০ শতাংশ কম রয়েছে। কাতারএনার্জির কিছু জাহাজ ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে আসতে শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের ক্ষেত্রে কাতার নভেম্বর এবং ইউরোপের ক্ষেত্রে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে।

ভারতের অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ সার কারখানা, সিটি গ্যাস নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলিতে আমদানি করা এলএনজির ওপর দেশের বড় অংশের নির্ভরতা রয়েছে। কাতার থেকে জোগান পর্যাপ্ত না হলে ভারতীয় আমদানিকারকদের আমেরিকা বা অন্য দেশ থেকে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হবে।

ইউরোপের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজার

অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলিতেও গ্যাসের মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে তুঙ্গে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার এলএনজি আমদানির ওপর পাকাপাকি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। যদি এবারের শীতে ইউরোপে শীতের প্রকোপ বেশি হয়, তবে তাদের অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হবে এবং তারা সরাসরি এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে। এর জেরে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম আরও হু হু করে বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চলতি শীতে ভারতের জ্বালানি বাজারে প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াতে চলেছে কাতার থেকে সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং ইউরোপের গ্যাসের চাহিদা কতটা বৃদ্ধি পায়। হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের আমদানিকারক ও সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *