রক্তাক্ত মুখে ‘হেল্প মি’ চিৎকার! ককপিটে সহ-পাইলটের উপর্যুপরি হামলায় দুবাই-সহ ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ভয়ঙ্কর আতঙ্ক

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) একটি বিমানে ঘটা ভয়াবহ ঘটনার নতুন ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানের ককপিটের ঠিক কাছাকাছি থাকা এক যাত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই রোমহর্ষক ও আতঙ্কের মুহূর্ত। মারাত্মকভাবে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে যাত্রীদের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায়। সেই ভাইরাল ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘হেল্প মি’’। আসলে কী ঘটেছিল আকাশে?ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) বিমানটি যখন দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল, সেই সময়ই মাঝ আকাশে ককপিটের ভেতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর হঠাৎ চড়াও হন তাঁর ওমানি সহকারী পাইলট। প্রাথমিক তদন্তে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেনকে নির্মমভাবে আক্রমণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঠিক পরেই বিমানটি আচমকাই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। ঠিক কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিতনতুন সামনে আসা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ঘটনার আকস্মিকতায় বিমানের অভ্যন্তরে চরম বিভ্রান্তি ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়। আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়মুড় করে ককপিটের দিকে ছুটে যান। কেউ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন, আবার কেউ সাহায্যের জন্য চিকিৎসকের খোঁজ করছিলেন। ঠিক এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেই গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন। তাঁর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পান। এরপর তাঁরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণকারী সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। বিমানে তখন ১৭৪ জন যাত্রীরিপোর্টে প্রকাশ, ওই ফ্লাইটে মোট ১৭৪ জন মানুষ সওয়ার ছিলেন। ককপিটে হুলুস্থুল কাণ্ডের জেরে বিমানটি যখন আকাশ থেকে হুড়মুড় করে নামছিল, তখন সাধারণ যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের পাশাপাশি বিমানে উপস্থিত অন্য অফ-ডিউটি দুই ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত বিমানটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। যাত্রীদের তৎপরতায় কাবু হামলাকারীবিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যাত্রীরাই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। কেবিনের সরঞ্জামের তার বা হেডফোনের তার ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে ফেলা হয় বলেও যাত্রীরা জানান। তবে এই হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসাধীন ভারতীয় পাইলটগুরুতর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে প্রথমে সৌদি আরবে এবং পরে চিকিৎসার জন্য আবু ধাবিতে স্থানান্তরিত করা হয়। ভারতীয় মিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলটকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী যোগ বা গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। ফ্লাইদুবাইয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং ককপিটের অন্দরমহলের সুরক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।