মদ্যপ পরিচালকের লালসার শিকার! ঘরের দরজা ভেঙে গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা, বিস্ফোরক স্বরা ভাস্কর

বলিউডের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ সিজন ২-এর অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে বর্তমানে চর্চায় রয়েছেন স্বরা ভাস্কর। আর এই জনপ্রিয় শোয়ের মঞ্চেই নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক ভয়াবহ ও অন্ধকার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন তিনি। শুটিং সেটে এক মদ্যপ পরিচালকের লোলুপ দৃষ্টি এবং তাঁর চরম অপকর্মের ভয়ংকর স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অভিনেত্রী, যা শুনে শিউরে উঠছেন ভক্তরা।

‘তনু ওয়েডস মনু’র সাফল্যের পরই বিভীষিকা
স্বরা ভাস্কর জানান, তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০১১ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘তনু ওয়েডস মনু’। সেই ছবির দুর্দান্ত সাফল্যের পরেই তাঁর সঙ্গে ঘটেছিল ওই ভয়ংকর ঘটনা। তাঁর কথায়, সেটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম এমন একটি ছবি, যেখানে তিনি অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রায় ৫৬ দিন ধরে চলেছিল সেই ছবির শুটিং। সেই সময়েই ওই ছবির পরিচালক তাঁকে নানাভাবে অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করেন। পরিচালক তাঁকে বলতেন যে, পরিচালকদের নাকি তাঁদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ‘ভালোবাসতে’ হয়! শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর রূপ ও সাজপোশাক নিয়ে নানা অপ্রীতিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রায়শই তাঁকে কবিতা শোনাতেন তিনি। তবে নবাগতা হিসেবে স্বরা অত্যন্ত নম্র ও ভদ্রভাবেই সেই সমস্ত কথার এড়িয়ে চলতেন।

একা রিহার্সালের কুপ্রস্তাব ও মদ্যপ পরিচালকের তাণ্ডব
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ছবির একটি ঘনিষ্ঠ রোম্যান্টিক দৃশ্যের রিহার্সাল দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে। স্বরার দাবি, পরিচালক তাঁকে নায়ক বা অন্য কলাকুশলীদের ছাড়াই সম্পূর্ণ একা একান্তে ওই দৃশ্যের রিহার্সাল দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকেন। সেই ঘটনার স্মৃতি হাতড়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে একা রিহার্সালের প্রস্তাব দিতেই আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিই যে, অভিনেতা, ক্যামেরাপার্সন এবং অন্য সবাইকে ডাকা হোক। সবাই মিলে একসঙ্গে রিহার্সাল দেব।”

স্বরা জানান, তিনি সেই সময় শুটিংয়ের গেস্টহাউসে একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন যে পরিচালক এবং সিনেমাটোগ্রাফার দুজনেই মদ্যপান করছিলেন এবং তাঁদের মদের বোতল অর্ধেক খালি ছিল! সেই ভয়ংকর পরিবেশের কথা মনে করে অভিনেত্রী জানান, ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং যত দ্রুত সম্ভব সেই স্থান থেকে সরে আসেন।

কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি সেই রাতের বিভীষিকা। গভীর রাতে হঠাৎ করেই স্বরার ঘরের দরজায় এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন খোদ পরিচালক। দরজা এমনভাবে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল, যেন তা ভেঙেই ফেলবেন তিনি। আতঙ্কিত হয়ে স্বরা দরজা খুলতেই মদ্যপ পরিচালক তাঁকে বারবার জোর করে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। অভিনেত্রী বারবার কড়া ভাষায় নিষেধ করা সত্ত্বেও পরিচালক সেই কুপ্রস্তাব থেকে সরে আসেননি। সেই রাতে কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করলেও, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে উল্টো দিকের মানুষটি ছবির পরিচালক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ ছিল না। ২০০৯ সালে বলিউডে পা রাখার পর যে সংগ্রাম ও সাফল্যের সিঁড়ি তিনি বেয়েছিলেন, তার নেপথ্যেই যে এমন নিদারুণ আতঙ্ক লুকিয়ে ছিল, স্বরার এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিতে আজ তোলপাড় গোটা বলিপাড়া।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *