বিজেপি নেত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবীর সুমন! বয়স্ক গায়কের কোন সমস্যায় পাশে দাঁড়ালেন পাপিয়া অধিকারী?

বাঙালির নস্ট্যালজিয়া আর আধুনিক রাজনীতির মঞ্চে ফের এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিংবদন্তি শিল্পী কবীর সুমন। বার্ধক্যের জেরে নানা সমস্যার মুখে পড়ে এবার সরাসরি রাজ্য বিজেপি এবং দলের স্থানীয় নেতৃত্ব বিশেষ করে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রশংসায় মুখ খুললেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
ঠিক কী ঘটেছিল কবীর সুমনের জীবনে?
ভিডিওর শুরুতে নিজের বর্তমান বয়স এবং ঠিকানার কথা উল্লেখ করে ৭৮ বছর বয়সি কবীর সুমন জানান, তাঁর বাসস্থান ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় পড়ে। তাঁর বাড়ির পাশেই একটি প্রকাণ্ড ও দরকারি গাছ ছিল। কিন্তু সময়মতো ডালপালা না ছাঁটায় ঝড়বৃষ্টিতে গাছটি বিদ্যুৎবাহী তারের ওপর নুয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। তিনি জানান, আগের কাউন্সিলরকে এই সমস্যার কথা জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। নতুন সরকারের কাউকে চিনতেন না তিনি, তাই এক পরিচিতর মাধ্যমে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর জোগাড় করেন।
মুহূর্তে সমস্যার সমাধান!
পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে পূর্বে কোনো পরিচয় না থাকলেও, হোয়াটসঅ্যাপে সমস্যা জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হন ওই বিজেপি বিধায়িকা। কোনো রকম কালক্ষেপ না করে তিনি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক ও গাড়ি পাঠিয়ে ঝুলে থাকা গাছের ডালপালা কেটে চারপাশ পরিষ্কার করে দেন।
গাছের সমস্যা মিটতে না মিটতেই বাঁধে নতুন বিপত্তি—এলাকার রাস্তার আলো নিভে যাওয়া। কবীর সুমন জানান, এই সমস্যা মেটাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থক সায়ন্তন সান্যাল। মাত্র একদিনের মধ্যে সমস্ত আলো ঠিক করে দেন তিনি।
নতুন সরকারের প্রশংসায় শিল্পী
ভিডিও বার্তায় খোলামেলা সুরে কবীর সুমন বলেন, “আমি যেটা দেখতে পাচ্ছি, নতুন সরকার এসে কাজ করছেন। পাড়ার দিকে নজর দিচ্ছেন। রাস্তায় নোংরা জমে থাকছে না, ময়লা সরানো হচ্ছে সময়মতো। জল আমরা পাচ্ছি, বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি। মোটামুটিভাবে এর বাইরে আমি আমার এই বয়সে আর কিছু ভাবতে পারছি না।”
বয়সের এই পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বিজেপি নেতৃত্বের এমন দ্রুত সদিচ্ছা এবং তৎপরতা নিয়ে কবীর সুমনের এই ইতিবাচক বার্তা এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল।