দশ বছরে মাত্র ১৬টি মিটিং! এলাহাবাদ হাইকোর্টের অন্দরে কী চলছে? বিচারপতির রায়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পূর্ণাঙ্গ আদালত বা ফুল কোর্ট সভা পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর ও কড়া প্রশ্ন তুলেছে খোদ আদালত। চারটি মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বিচারপতি বিনোদ দিওয়াকরের একক বেঞ্চ ফুল কোর্টের আলোচনা, বিচারকদের ব্যক্তিগত মতামত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর একগুচ্ছ বিশদ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
নিয়ম থাকলেও গত ১০ বছরে মাত্র ১৬টি বৈঠক!
আদালত উল্লেখ করেছে যে, পূর্ণাঙ্গ আদালতের কার্যবিবরণীতে স্বতন্ত্র বিচারপতিদের সম্মতি বা অসম্মতি যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় না। ১৯৫২ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিধিমালার তৃতীয় অধ্যায়ের ৮ নং বিধি অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির সাধারণত প্রতি তিন মাস অন্তর ফুল কোর্টের একটি সভা আহ্বান করার কথা। এছাড়া অন্তত পাঁচজন বিচারপতি সভা আহ্বান করলে এক সপ্তাহের মধ্যে তা ডাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আদালতের নজরে এসেছে যে, গত ১০ বছরের দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৬টি পূর্ণাঙ্গ আদালতের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে! আলোচ্যসূচির অধিকাংশ বিষয়ই কেবল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলী বা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পদবি সংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
কী কারণে এই প্রশ্ন তুলল আদালত?
বিচারপতি বিনোদ দিওয়াকর তাঁর রায়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ফুল কোর্টের উদ্দেশ্য কেবল কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাব পাস করা বা সরকারি আস্থা ভোটের মতো আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা নয়; বরং এতে সমস্ত বিচারকের নিজস্ব মতামত ও আলোচনার সমান গুরুত্ব থাকা উচিত। আদালতের মতে, স্বতন্ত্র বিচারকদের মতামত বা অসম্মতি স্পষ্ট না থাকলে সম্মিলিত আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। প্রায় ৮০ পৃষ্ঠার এই রায়ে হাইকোর্ট প্রশাসনের প্রধান বিচারপতি-কেন্দ্রিক মডেলে ভারসাম্য আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং বিচারিক পদের মর্যাদা বজায় রাখতে সুস্পষ্ট নিয়ম এবং কার্যকর পর্যালোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে আদালত।