ফুল বদলের জল্পনায় সিলমোহর! মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে কি পদ্মশিবির থেকে রাজ্যসভায় কোয়েল মল্লিক?

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক বিরাট চমকের গুঞ্জন। মাত্র কয়েক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভায় পা রেখেছিলেন জনপ্রিয় টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের পালাবদলের আবহেই সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার সমস্ত জল্পনাকে সত্যি করে পদ্মশিবিরের প্রার্থী হিসেবে তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, আগামী ৫ অক্টোবর বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতে পারেন রঞ্জিত কন্যা কোয়েল। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজ্য বিধানসভার অন্দরে তোড়জোড় শুরু হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড়িয়ে চড়ছে।

তৃণমূল ছেড়ে পদত্যাগ ও সাক্ষাতের জল্পনা
চলতি বছরের গত ৫ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে রাজ্যসভার জন্য প্রথমবার মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। এর মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে তাঁর অভিষেক ঘটেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণের পটপরিবর্তনে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সাংসদপদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়ার পর পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, সেই সময়ই দলবদলের সঙ্কেত মিলেছিল।

ফাঁকা আসনে ভোটের দিনক্ষণ ও বিজেপির প্রস্তুতি
কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের পর নির্বাচন কমিশন ওই খালি আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা করে। আগামী ৬ অক্টোবর এই নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। সাযুজ্য রেখেই বিধানসভায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজ জোরকদমে এগোচ্ছে। প্রস্তাবকদের সই-সাবুদের প্রক্রিয়াতেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিজেপি বিধায়করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেষ মুহূর্তে বড়সড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না ঘটলে আগামী ৫ অক্টোবরই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিক মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। যদিও পদ্মশিবিরের রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়ে চূড়ান্ত মুখ খুলতে নারাজ। দলের অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে, “দলের নাম বিজেপি, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।” তবে টলিপাড়া থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহলে এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পালাবদল এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *