রাষ্ট্রসংঘের বৈঠক ফুরোতেই নিউইয়র্ক ছাড়ার চরম নির্দেশ! মার্কিন কড়াকড়িতে বিপাকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী

নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা ও চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও কঠোর বিধিনিষেধ সাপেক্ষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচিসহ পুরো প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিয়েছিল মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁরা যাতে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন।
ঠিক কী কারণে এই নির্দেশ?
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার ঠিক পরেই ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্ক ছেড়ে চলে যান। তবে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি নিউইয়র্কেই থেকে যান বলে খবর মেলে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানো এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ফের আলোচনার সূত্রপাত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রসংঘের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি আমেরিকার মাটিতে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
সূত্রের খবর, আরাঘচি পরিকল্পনা করেছিলেন যে তিনি অন্তত বুধবার পর্যন্ত নিউইয়র্কেই থাকবেন। তবে মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও এই অতিরিক্ত উপস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট হন। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের বৈঠকে ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা খুব একটা এগোয়নি দেখেই মূলত ধৈর্য হারান মার্কিন বিদেশসচিব।
অবিলম্বে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সোমবারই ইরানি শিবিরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আরাঘচি এবং তাঁর পুরো প্রতিনিধিদলকে অবিলম্বে নিউ ইয়র্ক ছাড়তে হবে। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরের খবর অনুযায়ী, বিদেশসচিব রুবিওর স্পষ্ট মনে হয়েছিল যে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন থাকার ফন্দি আঁটছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। যেহেতু রাষ্ট্রসংঘের মূল উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই তাঁদের অযথা সেখানে অবস্থান করার কোনো যুক্তি নেই।
মার্কিন প্রশাসনের এই কড়া নির্দেশের পরই মঙ্গলবার ভোরে নিউইয়র্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হন ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর সঙ্গীরা। বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ আবহে মার্কিন মুলুক থেকে ইরানি মন্ত্রীর এই হঠাৎ প্রস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।