বিগ বসের বাইরেই এত বড় টুইস্ট! ঘরের শত্রুরাই এবার এক ছাদের তলায়? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল!

বিগ বসের ঘরের অন্দরমহল মানেই প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সমীকরণ। সেখানে আজ যে বন্ধু, কাল সে-ই আবার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। তবে শোয়ের চার দেওয়াল এবং নমিনেশনের সেই প্রচণ্ড চাপ এখন সম্পূর্ণ অতীত। সমস্ত রেষারেষি ও তিতকুটে মনোভাব দূরে সরিয়ে এবার বাইরের দুনিয়ায় একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন টেলিপর্দার চেনা মুখ সায়ক চক্রবর্তী। ঘরের বাইরে পা রেখেই প্রাক্তন প্রতিযোগীদের সঙ্গে এক জমজমাট আড্ডায় মেতে উঠলেন তিনি, যার পুরো ঝলকটি নিজের নতুন ভ্লগে তুলে ধরেছেন অভিনেতা।
রিইউনিয়নে জমজমাট আড্ডা
ভাইরাল হওয়া ওই ভ্লগে সায়কের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠতে দেখা গিয়েছে সোহিনী সরকার এবং আলেকজান্দ্রাকে। তবে শো থেকে ছিটকে যাওয়া প্রতিযোগীদের সকলেই যে এই গেটটুগেদারে হাজির থাকতে পেরেছিলেন, এমনটা নয়। ভিডিওতে সায়ক নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জয়িতা এই মুহূর্তে মুম্বইয়ে রয়েছেন এবং অনিন্দ্য নিজের কাজে বেজায় ব্যস্ত। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এই তিন বন্ধু মিলে জমিয়ে আড্ডা দেন এবং পুরনো দিনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
পুরনো নমিনেশনের হিসেব ও মজার খুনসুটি
ক্যামেরার সামনে প্রতিযোগীদের মধ্যে যতই দ্বন্দ্ব বা ইগো থাকুক না কেন, বাস্তবের মাটিতে তাঁরা যে দারুণ বন্ধু, এই আড্ডা যেন তারই সেরা প্রমাণ। মজার ছলে কথার শুরুতেই পুরনো দিনের একটি বিষয় তুলে ধরেন সায়ক। প্রথম সপ্তাহে কেন সায়ককে নমিনেট করেছিলেন আলেকজান্দ্রা, সরাসরি সেই প্রশ্নই তাঁর দিকে ছুড়ে দেন অভিনেতা।
হাসতে হাসতে সোজাসাপ্টা জবাব দিয়ে আলেকজান্দ্রা বলেন, “আমি তোমায় মেরে দেব!” তবে এর নেপথ্যের আসল কারণটিও খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে দেন তিনি। অ্যালেক্স জানান, প্রথম দিকে তাঁর বাংলা বুঝতে বেশ সমস্যা হতো, আর সায়কের আবার ইংরেজি বুঝতে অসুবিধা হতো। তাছাড়া শোয়ের শুরুতে দুজনের মধ্যে সেভাবে কথা হওয়ার সুযোগও ছিল না। এই সমস্ত কারণেই বাধ্য হয়ে সায়ককে নমিনেট করতে হয়েছিল তাঁকে।
ভুল বোঝাবুঝি দূর করে নতুন সমীকরণ
আড্ডার পারদ চড়তেই প্রসঙ্গ ওঠে সায়ক ও সোহিনীর সম্পর্ক নিয়েও। বিগ বসের প্রথম সপ্তাহে সায়ক এবং সোহিনী একে অপরকে নমিনেট করেছিলেন। সায়ক জানান, সেই সময় বাড়ির অন্দরে তাঁরা কেউই কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলতেন না।
এই প্রসঙ্গে একদম অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করেন সোহিনী। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি তোমার ব্যাপারে আগে থেকেই একটা মাইন্ড সেট করে রেখেছিলাম। হয়তো অনেকেই এটা ভেবে রেখেছে। কিন্তু তুমি আসলে যেরকম আর আমি যেটা ভেবেছিলাম, দুটো একদম আলাদা।” অর্থাৎ, শো চলাকালীন তৈরি হওয়া সেই ভুল বোঝাবুঝি এখন পুরোপুরি বরফ গলে জল হয়ে গিয়েছে। সমস্ত না বলা কথা এবং মজার ঘটনাগুলো নিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে সময় কাটিয়েছে এই ত্রয়ী।
পুরনো স্মৃতি হাতড়ে সায়কও বেশ রসিকতা করে বলেন, “আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। ভাবছিলাম এত শান্ত স্বভাবের একটা মেয়ে আমাকে বলছে দূরে থাকো!” বিগ বসের ঘরের সেই পুরোনো রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান যে এখন পুরোপুরি ধোপে টিকছে না, তা এই ভ্লগ থেকেই পরিষ্কার। ক্যামেরার সামনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ভুলে বাস্তবে এমন সুন্দর বন্ধুত্বের রসায়ন দেখে বেশ আপ্লুত নেটিজেনরাও।