মাত্র ৫০ হাজার টাকায় নিজের পাকা ফ্ল্যাট! পুজোর আগে চটকল শ্রমিকদের জন্য বাম্পার উপহার রাজ্য সরকারের

সাধারণ মানুষের নিজস্ব ছাদ পাওয়ার স্বপ্নপূরণে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০ (PMAY-U 2.0)-এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ (AHP) প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও ভাড়ায় বসবাসকারী চটকল শ্রমিকদের জন্য একটি যুগান্তকারী আবাসন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য শ্রমিকরা মাত্র ৫০,০০০ টাকার বিনিময়ে ২ কামরার নিজস্ব পাকা ফ্ল্যাট হাতে পাবেন।

প্রকল্পের খরচ ও আর্থিক অনুদান: প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্ল্যাট তৈরিতে মোট আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৫.৫০ লক্ষ টাকা। এই বিশাল অঙ্কের সিংহভাগ খরচ বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম দফতর। খরচের হিসেবটি হলো এরকম:

  • কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান: ১.৫০ লক্ষ টাকা

  • রাজ্য সরকারের অনুদান: ২.৭৯ লক্ষ টাকা

  • শ্রম দফতরের অবদান: ৭১,০০০ টাকা

  • সুবিধাভোগী বা শ্রমিকের অংশ: মাত্র ৫০,০০০ টাকা

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রজেক্ট (Pilot Project) হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলায় এই প্রকল্প রূপায়ণ করা শুরু হচ্ছে।

ফ্ল্যাটের বিবরণ ও কার্পেট এরিয়া: প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিটি ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া হবে প্রায় ৩২০ থেকে ৪৫০ বর্গফুট (কিছু ক্ষেত্রে ৪৮৫ বর্গফুট পর্যন্ত)। ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকবে দুটি শোয়ার ঘর (2BHK), একটি রান্নাঘর এবং একটি শৌচাগার। সাধারণত চার তলা (G+3) ভবনে প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কারা এই প্রকল্পের যোগ্য? এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে: ১. পেশাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন চটকল শ্রমিক হতে হবে, যিনি বর্তমানে জরাজীর্ণ বা পুরনো শ্রমিক কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। ২. আর্থিক সীমা: আবেদনকারীকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (EWS) ভুক্ত হতে হবে এবং পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকতে হবে। ৩. পাকা বাড়ি না থাকা: আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের নামে দেশের কোথাও কোনো পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। ৪. পূর্ববর্তী সুবিধা: বিগত ২০ বছরের মধ্যে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অন্য কোনো আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকলে, তিনি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এছাড়াও ফ্ল্যাট বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী পরিবার, বিধবা, একক মহিলা এবং রূপান্তরকামীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নিচ তলার ফ্ল্যাট বরাদ্দ করার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *