অনলাইনে শপিং করলেই অ্যাকাউন্ট শূন্য! ৫টি মারাত্মক ফন্দি ফিকির না জানলে এক নিমেষে সর্বস্বান্ত হবেন

পুজো বা উৎসবের মরসুম মানেই দেদার অফার আর ডিসকাউন্টের ছড়াছড়ি। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা। সামান্য কিছু ছাড় বা লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মুহূর্তের মধ্যে সাফ করে দিচ্ছে প্রতারকরা। একটুখানি অসাবধানতা আপনার জীবনের কষ্টের জমানো টাকা নিমেষে কেড়ে নিতে পারে। সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, অনলাইন শপিংয়ের নামে জালিয়াতির ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কোন কোন ফাঁদ থেকে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রতারকরা কীভাবে ফাঁদ পাতে?
-
ভুয়ো ডেলিভারি লিঙ্ক: আপনার ফোনে মেসেজ আসতে পারে যে পার্সেল আটকে আছে এবং ঠিকানা আপডেট করতে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হবে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই ফোনে ম্যালওয়্যার ঢুকে যায় এবং ওটিপি চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।
-
ফেক ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে নামী ব্র্যান্ডের নামে ৯০ শতাংশ ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ভুয়ো বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। দেখতে হুবহু আসল ওয়েবসাইটের মতো হলেও টাকা দেওয়ার পর আর পার্সেল আসে না, উল্টে কার্ডের সমস্ত তথ্য চুরি হয়ে যায়।
-
ক্যাশ অন ডেলিভারি ফ্রড: আপনি হয়তো কোনো অর্ডারই করেননি, অথচ আপনার বাড়িতে পার্সেল এল এবং সামান্য কিছু টাকা দিতে বলা হলো। পার্সেল খুলে দেখা গেল ভেতরে সাবান কিংবা পাথর রয়েছে।
-
QR কোড ও রিফান্ডের ফাঁদ: টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে কোনো কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলা হলে সাবধান হন। মনে রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য কখনওই কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয় না বা ইউপিআই পিন দিতে হয় না।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
-
সবসময় অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন এবং ব্রাউজারের ইউআরএল চেক করুন (https:// আছে কি না দেখুন)।
-
অচেনা বা নতুন কোনো সাইট থেকে কেনাকাটা করার সময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) অপশনটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
-
ব্যাংক বা শপিং কোম্পানির পরিচয় দিয়ে কেউ ওটিপি (OTP), সিভিভি (CVV) বা ইউপিআই পিন চাইলে তা ভুলেও কাউকে দেবেন না।
-
গুগল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া বিজ্ঞাপনের লিঙ্কে না গিয়ে সবসময় সংস্থার অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেই কেনাকাটা করুন।
যদি দুর্ভাগ্যবশত আপনি কোনো প্রতারণার শিকার হন, তবে দেরি না করে অবিলম্বে ১৯৩০ নম্বরে ফোন করুন অথবা http://cybercrime.gov.in পোর্টালে গিয়ে অভিযোগ জানান। জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর প্রথম দুই ঘণ্টা—যাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়—তার মধ্যে অভিযোগ জানাতে পারলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।