নীতীশ কুমারকে আটকানো উচিত হয়নি! প্রবীণ নেতার কথায় কেন মেজাজ হারালেন সনিয়া গান্ধী?

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সাম্প্রতিক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই তীব্র মতানৈক্যের খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট থেকে সরে যাওয়া নিয়ে দলের দুই প্রবীণ নেতা-নেত্রী—সোনিয়া গান্ধী এবং দিগ্বিজয় সিংয়ের মধ্যে সরাসরি বাকবিতণ্ডা বেধে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বুধবারের পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের ঠিক আগে কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সোমবার কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিত করতেই ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের পাশাপাশি রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো শীর্ষ নেতৃত্বও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কী নিয়ে শুরু বিতর্ক?
বৈঠক চলাকালীন প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং মত প্রকাশ করেন যে, নীতীশ কুমারকে কিছুতেই ‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া উচিত ছিল না। তাঁর যুক্তি ছিল, নীতীশ জোটে টিকে থাকলে আজ রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত এবং তাঁকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা উচিত ছিল।
দিগ্বিজয়ের এই মন্তব্যের পরেই অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সোনিয়া গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে নীতীশ কুমার সময়মতো জোট ছেড়ে চলে গিয়েছেন। উনি তো সবসময় ওই পক্ষেই যাওয়ার পথ খুঁজছিলেন।” সোনিয়ার আরও অভিযোগ, নীতীশ বরাবরই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো না কোনো বাহানা খুঁজছিলেন এবং তিনি মূলত বিজেপির নির্দেশেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিলেন।
পাটনা থেকে দিল্লি: পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসেই বিহারে তৎকালীন বিরোধী মহাজোট ভেঙে বেরিয়ে আসেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। এরপর পুরনো মিত্র বিজেপির হাত ধরে এনডিএ জোটে ফিরে রেকর্ড নবম বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন হন তিনি। তাঁর সেই আকস্মিক দলবদল বিরোধী শিবিরের জন্য তৎকালীন সময়ে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
সিডব্লিউসির অন্যান্য প্রস্তাব ও আক্রমণ
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বেশ কিছু কড়া প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে অবিলম্বে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি এবং নির্বাচন কমিশন সমঝোতা করেছে—এমন অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ এবং আদালত—সব জায়গাতেই আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।