শুধু মুখের ত্বক নয়, পুজোর আগে নজর দিন ঠোঁটেও! কালচে ভাব দূর করার রইল দারুণ টিপস

পুজো আসতে আর মাত্র কদিন বাকি। এই সময়ে সাজসজ্জা আর ফেস লুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। তবে মুখের ত্বকের পাশাপাশি সমানভাবে জরুরি ঠোঁটের যত্ন নেওয়া। কারণ, নানা কারণে অনেকেরই ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যায়। মনে রাখা দরকার, প্রত্যেকের ঠোঁটের জন্মগত রঙের ধরন আলাদা, তাই ঘরোয়া টোটকায় রাতারাতি ঠোঁটের রং বদলে ফেলা সম্ভব না হলেও, সঠিক ও নিয়মিত যত্নে ঠোঁটকে রাখা যায় নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

ঠোঁট কালচে হয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু সাধারণ কারণ ও অভ্যাস। সেগুলোর দিকে নজর দিলেই ঠোঁটের সৌন্দর্য বজায় রাখা সম্ভব:

ধূমপান ত্যাগ করুন: ঠোঁট কালচে হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়া ও তাপ ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকে বারবার ইরিটেশন তৈরি করে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার ফলেই ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সবার আগে ধূমপান কমানো বা বন্ধ করা প্রয়োজন।

নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করুন: শুষ্ক ও ফাটা ঠোঁট দেখতে অনেক সময় আরও বেশি কালচে লাগে। তাই দিনে কয়েকবার ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম লাগানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঠোঁট অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে তা টেনে ছাড়ানো বা দাঁত দিয়ে কামড়ানোর বদভ্যাস অবিলম্বে এড়িয়ে চলুন।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা: শুধু মুখের ত্বকই নয়, সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি ঠোঁটের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই রোদে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই এসপিএফ-যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা ভালো। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী তা আবার লাগিয়ে নেওয়া উচিত। মাঝে মাঝে ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে কয়েক মিনিট ঠোঁটে রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, কোনো কিছু লাগানোর পর যদি জ্বালাভাব অনুভূত হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা তুলে ফেলুন।

পর্যাপ্ত জল পান ও অন্যান্য সতর্কতা: শরীরে জলের ঘাটতি হলে ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায়, তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। এর পাশাপাশি বারবার জিব দিয়ে ঠোঁট চাটার অভ্যাস থাকলে তা আজই কমান। সকালে মুখ ধোওয়ার পর এবং রাতে ঘুমোনোর আগে নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস করুন। কোনো নির্দিষ্ট প্রসাধনীতে অ্যালার্জি থাকলে সেই লিপ বাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি ঠোঁটের কালচে ভাব না কমে অথবা কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *