বলিউডের সেই ‘অভিশপ্ত’ নাম! যে শব্দের জেরে পরপর ৯টি ছবি ফ্লপ, ডুবেছিল একাধিক তারকার কেরিয়ার

বলিউডে ছবির নাম বাছার ক্ষেত্রে কুসংস্কার, সংখ্যাতত্ত্ব কিংবা বিশেষ অক্ষরের প্রতি নির্মাতাদের দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। কোনো একটি নাম সফল হলে সেই ফর্মুলায় একের পর এক ছবি তৈরির নজিরও নেহাত কম নেই। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট শব্দ যদি বারবার ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিবারই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে, তবে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এমনই এক অদ্ভুত ও রহস্যজনক নজির তৈরি হয়েছে ‘কর্জ’ (Karz) শব্দটিকে ঘিরে।
কী এই ‘কর্জ’-এর ইতিহাস?
‘কর্জ’ কথাটির অর্থ ঋণ বা দেনা। এই একটিমাত্র শব্দকে সম্পূর্ণ নাম হিসেবে ব্যবহার করে বলিউডে মোট তিনটি ছবি তৈরি হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আরও ছটি ছবির নামের অংশ হিসেবেও বারবার ফিরে এসেছে এই শব্দটি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মোট নটি ছবির একটিও বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখেনি। উল্টে কয়েকটি ছবির চরম ব্যর্থতা ডুবিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট তারকা এবং নির্মাতাদের কেরিয়ার।
এই তালিকার প্রথম ছবি মুক্তি পায় ১৯৮০ সালে—সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘কর্জ’। মুখ্য চরিত্রে ঋষি কাপুর, সঙ্গে সিমি গারেওয়াল ও টিনা মুনিম। পুনর্জন্মের প্রতিশোধের এই গল্পটি আজ কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পেলেও, মুক্তির সময় বক্স অফিসে ৪ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করতে পারেনি। একই সময়ে ফিরোজ খানের ‘কুরবানী’ মুক্তি পাওয়ায় দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, এই ছবির ব্যর্থতা তাঁকে তীব্র অবসাদ ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে এর গান ও ছবিটির আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়।
বারবার ফিরে এসেছে ব্যর্থতার ভূত
এরপর ২০০২ সালে হ্যারি বাওয়েজা নিয়ে আসেন ‘কর্জ: দ্য বার্ডেন অফ ট্রুথ’। সানি দেওল ও সুনীল শেট্টি অভিনীত এই ছবিও দর্শকদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এর ঠিক ছ’বছর পর ২০০৮ সালে হিমেশ রেশমিয়াকে নিয়ে তৈরি হয় রিমেক ছবি ‘Karzzzz’। প্রায় ২৪ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবি আয় করেছিল মাত্র ১৬ কোটি টাকা। শোনা যায়, এর ফলে নির্মাতারা দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রী উর্মিলা মাতন্ডকরের বড়পর্দার কেরিয়ার এই ছবিটির পরেই কার্যত থমকে যায়, আর নবাগত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা শ্বেতা কুমারও বলিউড থেকে হারিয়ে যান।
শুধু এই তিনটি ছবিই নয়, ১৯৮৮ সালের ‘কর্জ তেরে খুন কা’, ১৯৯০ সালের ‘দুধ কা কর্জ’ ও ‘পেয়ার কা কর্জ’, ১৯৯১ সালের ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’ ও ‘মহান কর্জ’, এবং ২০১৬ সালের ‘দুধ কা কর্জ’—এই সমস্ত ছবিই বক্স অফিসে ৫ কোটি টাকার গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয়।
চার দশকের ব্যবধানে কখনও একা, কখনও অন্য শব্দের সঙ্গে জুড়ে ‘কর্জ’ শব্দটি বারবার ফিরে এসেছে, কিন্তু সাফল্য প্রতিবারই অধরা থেকেছে। এটি নিছক কাকতালীয় ঘটনা, নাকি বলিউডের দীর্ঘদিনের কুসংস্কারের কোনো কালো ছায়া—তার উত্তর মেলেনি। তবে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে একই নামের সঙ্গে পরপর নটি ছবির ব্যর্থতা, মানসিক অবসাদ ও আর্থিক বিপর্যয়ের এমন নজির সত্যিই বিরল।