রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গি! কলকাতার কোন কোন ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি বিপদ? তালিকা প্রকাশ করল নবান্ন

রাজ্যজুড়ে ফের চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। আক্রান্তের সংখ্যা যে সমস্ত এলাকায় মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই অঞ্চলগুলিকে সুনির্দিষ্ট ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে জোরদার প্রতিরোধ কৌশল সাজাতে চলেছে নবান্ন। প্রাথমিক পর্বে রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
কলকাতায় কোন ওয়ার্ডগুলি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
রাজ্য সরকার সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা পুরসভা এলাকা। বিশেষ করে কলকাতার ২, ৫, ১৬, ৭৭ এবং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। শুধু তিলোত্তমাই নয়, কলকাতার পাশাপাশি একাধিক জেলার বিভিন্ন ব্লকেও ডেঙ্গির দাপট যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে ১০৩ জন, নওদায় ৫১ জন এবং লালগোলায় ৩২ জন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। অন্যদিকে, নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ জন। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির মাল ও মাটিয়ালি ব্লকে যথাক্রমে ৬৭ এবং ৩৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। হাওড়া পুরসভা এলাকায় ৪৪ জন এবং হুগলির পোলবা ব্লকেও ৩৮ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে হাওড়ার ১৫, ২১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-১ ও ভাঙড়-২ ব্লকে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩২ জন এবং আসানসোল পুরনিগম এলাকাতেও ৩২ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
YouTube
স্কুল স্তরে সচেতনতা প্রচারের নির্দেশ
শুধুমাত্র চিকিৎসা বা প্রশাসনিক নজরদারিই নয়, ডেঙ্গি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবার বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে নির্দেশিকা পাঠিয়ে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলকে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়গত বৈঠকের পরপরই বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের অভিমত, ছাত্রছাত্রীদের এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করলে ডেঙ্গি প্রতিরোধের সঠিক বার্তা খুব সহজেই সমাজের প্রতিটি কোণায় ও সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সমস্ত স্কুলগুলিকে তাই বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।