বিগ বস বাংলায় ধুন্ধুমার কাণ্ড! লঙ্কা চিবিয়ে প্রচার আর হাতাহাতিতে রণক্ষেত্র রিয়ালিটি শোয়ের ঘর

বাঙালি থাকবে আর রাজনীতি থাকবে না—এমনটা তো সচরাচর হওয়ার নয়! আর সেই অলিখিত নিয়ম মেনেই এবার সরাসরি ছোট পর্দার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরেও ঢুকে পড়ল পুরোদস্তুর রাজনীতি। মঙ্গলবার বিগ বসের ঘরে যে নতুন লাক্সারি বাজেট টাস্কের সূচনা হয়েছে, তার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাজনীতি’। আর এই টাস্ককে কেন্দ্র করেই ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঘরের অন্দরমহল।

কীভাবে ভাগ হলো দলগুলি?

এই বিশেষ টাস্কের নিয়ম অনুযায়ী পুরো ঘরটিকে মোট তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি রাজনৈতিক দল এবং একদল সাধারণ জনতা। পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা ভরত কল (Bharat Kaul)। অন্যদিকে, দুটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের দলনেতার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে জিতু কমল (Jeetu Kamal) এবং দুর্নিবার সাহা (Durnibar Saha)-কে।

জিতুর দলে সওয়ার হয়েছেন মনামী ঘোষ, নন্দিনী দত্ত এবং রাজবীর দে। বিপরীতে দুর্নিবারের দলে রয়েছেন ঝিলাম, তনুশ্রী এবং বিগ বসের ঘরে সদ্য এন্ট্রি নেওয়া অনুষ্কা। পাশাপাশি, সাধারণ জনগণের ভূমিকায় এই খেলায় অংশ নিয়েছেন সৃজলা গুহ, নিরঞ্জন মণ্ডল, সোনামণি সাহা এবং দীপেন্দু বিশ্বাস।

প্রচার ঘিরে চরম বিবাদ ও হাতাহাতি

দুই দিনের এই লাক্সারি বাজেট টাস্ক শুরু হতেই বিগ বসের বাড়ি যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলিকে সাধারণ জনগণের কাছে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে সেখানেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিরঞ্জন, সৃজলা এবং সোনামণি জিতুর দলের জন্য অত্যন্ত কঠিন কিছু শর্ত চাপিয়ে দেন। তাঁরা সাফ জানান, জিতুর দলের প্রতিনিধিকে লঙ্কা চিবোতে চিবোতে নির্বাচনী প্রচার করতে হবে, বাকিদের মুখে জল রাখতে হবে এবং প্রত্যেককে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

কিন্তু এই অদ্ভুত নিয়ম মানতে বেজায় নারাজ ছিলেন রাজবীর। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এর মধ্যেই আবার দুর্নিবারের দল ঘরের বিভিন্ন কোণায় নিজেদের প্রচারের পতাকা পুঁততে শুরু করে। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয় যখন মাথা গরম করে রাজবীর দুর্নিবারের দলের সমস্ত পতাকা উপড়ে ফেলেন। অনুষ্কা সেই পতাকা কেড়ে নিতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এই টানাটানির জেরে দুর্নিবারের দলের পতাকা যেমন ভেঙে যায়, তেমনই অনুষ্কার নখও ভেঙে রক্তপাতের উপক্রম হয়। এখানেই শেষ নয়, উত্তেজনার বশে বিরোধী দলের জিনিসপত্র ভাঙচুর করারও অভিযোগ ওঠে।

দুই দিনের এই দীর্ঘ টাস্কের শেষে সাধারণ জনগণের ভোটের ওপর নির্ভর করছে কোন দল লাক্সারি বাজেট জিতবে। তবে যেভাবে কথার লড়াই গড়াল হাতাহাতিতে, তাতে এই হাই-ভোল্টেজ টাস্ক শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হবে, নাকি পূর্বের মতো মাঝপথেই ভেস্তে যাবে—এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *