দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইটে জরুরি সংকেত! হঠাৎ গতিপথ বদলে সৌদি আরবে অবতরণ করতেই চরম আতঙ্ক

আকাশপথে চরম উৎকণ্ঠার মুহূর্ত। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) একটি বিমান বুধবার আচমকাই নিজেদের নির্ধারিত গতিপথ বদলে সৌদি আরবের মাটিতে অবতরণ করে। বিমানটি থেকে জরুরি সংকেত পাঠানোর পরই এই ঘটনা ঘটে, যার জেরে কিছু সময়ের জন্য বিমান ছিনতাই বা হাইজ্যাকিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, এটি কোনও হাইজ্যাকিংয়ের ঘটনা ছিল না।
আসলে ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে?
‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের ওই বিমানটি প্রথমে ‘৭৭০০’ স্কোয়াউক কোড (squawk code) পাঠায়, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে যে কোনও সাধারণ জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ‘৭৫০০’ কোড পাঠায়। বিমান চালনার ক্ষেত্রে এই ‘৭৫০০’ কোডটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা সম্ভাব্য ছিনতাই বা আকাশপথে যেকোনো ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে।
এই সংকেত পাওয়ার পরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ইজরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানটির গতিবিধির উপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছিল এবং নিরাপত্তার খাতিরে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোও আকাশে টহল শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ছিনতাই নয়, অন্য কোনও কারণে জরুরি অবতরণ?
প্রাথমিকভাবে স্কোয়াউক কোডের হেরফের দেখে হাইজ্যাকিংয়ের আশঙ্কা জোরালো হলেও, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর নিশ্চিত করেছে যে এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না। এদিকে, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, বিমানের ককপিটের ভেতরে ক্রু সদস্য বা পাইলটদের মধ্যে কোনো কারণে তীব্র বাক-বিতণ্ডা বা বচসা শুরু হয়েছিল। সেই উত্তেজনার মধ্যেই ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত জরুরি সংকেতটি চালু হয়ে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। বিমানটির হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন এবং পরপর বিপজ্জনক জরুরি সংকেত পাঠানোর নেপথ্যে আসল কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে না এলেও, বড়সড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যাওয়ায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীরা।