পরপর ৪ বার এড়িয়েছেন হাজিরা! অমিত শাহকে নিয়ে পোস্টের জেরে ফের পুলিশের নোটিশ মহুয়াকে

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ফের তলব করল ডায়মন্ড হারবার সাইবার থানার পুলিশ। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও থানায় হাজিরা দেননি তিনি। এবার তাঁকে আগামী ৩ অক্টোবর থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে মোট পাঁচবার পুলিশি নোটিশ পেলেন মহুয়া।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতে নিজের এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মহুয়া মৈত্র। ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইপিএস এবং আইএএস আধিকারিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি তিনজন আধিকারিকের নামও উল্লেখ করেন।
উসকানির অভিযোগে মামলা দায়ের
সাংসদের এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ডায়মন্ড হারবারের এক বাসিন্দা এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, মহুয়ার ওই পোস্ট সমাজে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপর তদন্তের স্বার্থে চলতি মাসে তাঁকে পর পর চারবার হাজিরার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। অবশেষে তাঁকে পঞ্চমবারের জন্য নোটিশ পাঠাল পুলিশ।
কী বলছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী?
পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, সাংসদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এর আগেও নানা অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছেন। সেখানে সেনাবাহিনী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর কথার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ‘তুলসী’ অবমাননার মতো বিষয়ও রয়েছে। এমনকী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বোরখা নিয়েও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি, এইসব মন্তব্য সরাসরি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। তাঁর মতে, বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও সাংসদ তা গ্রাহ্য না করে আইনকে অবজ্ঞা করছেন।
এর আগে ভুয়ো চ্যাট ছড়ানোর একটি মামলায় মহুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর আদালত এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিল। তবে বর্তমানে তাঁর নিজের করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েই বিপাকে পড়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। আগামী ৩ অক্টোবর তিনি ডায়মন্ড হারবার সাইবার থানায় আদৌ হাজিরা দেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।